সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ‘পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তো পুলিশ উল্টে জয়নগরের মোয়া ছুড়বে না। গুলিই ছুড়বে।’ বুধবার তারাপীঠে পুজো দিয়ে বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে চাঁছাছোলা প্রতিক্রিয়া দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
সংবাদদাতা, রামপুরহাট: ‘পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়লে তো পুলিশ উল্টে জয়নগরের মোয়া ছুড়বে না। গুলিই ছুড়বে।’ বুধবার তারাপীঠে পুজো দিয়ে বারুইপুর এনকাউন্টার নিয়ে চাঁছাছোলা প্রতিক্রিয়া দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার।
বারুইপুরের ঘটনা প্রসঙ্গে তাঁর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া ছিল, বিষয়টি সম্পূর্ণ প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক নেতা হিসেবে এর গভীরে কী ঘটেছে তা বলা তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তবে সংবাদমাধ্যমের সূত্রে তিনি জানতে পেরেছেন যে, অভিযুক্ত ব্যক্তি পুলিশের অস্ত্র ছিনিয়ে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করছিল এবং পুলিশকে লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিল। যার জবাবে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায় এবং হয়তো তাতেই এই ঘটনা ঘটেছে। এরপরেই তিনি ওই উক্তি করেন।
বারুইপুরকাণ্ডে সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তীর নামে থানায় অভিযোগ দায়ের হওয়া প্রসঙ্গে সুকান্তবাবু বলেন, বাচ্চা মেয়েটির সঙ্গে যে ঘটনা ঘটেছে সেটা অত্যন্ত গর্হিত অপরাধ। আমাদের সরকার সঙ্গে সঙ্গে পদক্ষেপ নিয়েছে, পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে। মুখ্যমন্ত্রী চরমতম শাস্তির আশ্বাসও দিয়েছেন। কিন্তু তারপরও সিপিএম নেতারা যেভাবে সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক বক্তব্য রাখছেন, সিএএ বিরোধী আন্দোলনের মতো রেললাইন উপড়ে ফেলার কাজ করছেন। যেভাবে সাম্প্রদায়িক উস্কানি দিয়ে একজন হিন্দুকে গণপিটুনিতে মেরে ফেলার ব্যবস্থা করা হল, এর দায় সিপিএমকেই নিতে হবে। তিনি বলেন, সিপিএমের কাজই হচ্ছে মানুষের লাশ নিয়ে রাজনীতি করা, আর সেটা হিন্দুদের লাশ হলে ওদের আরও ভালো হয়। যেসব এলাকার জনবিন্যাস পরিবর্তন হওয়ার কারণে আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হচ্ছে, সেখানে সাম্প্রদায়িক অ্যাঙ্গেল থেকে হিন্দুদের ওপর আক্রমণ হচ্ছে। বারুইপুরও তার বাইরে নয়। এ প্রসঙ্গে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের সরকার এসেছে। একটু সময় দিন, সব সোজা হয়ে যাবে। এরকম অনেক কুকুরের লেজ সোজা করেছি। যারা এরকম সাম্প্রদায়িক মানসিকতায় আক্রান্ত, তাঁদের জন্য বিজেপির ভ্যাকসিন আছে, চিন্তা নেই।
তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় নেটিজেনদের একাংশ যেভাবে এই এনকাউন্টারকে সমর্থন করে ধর্ষকদের এমনই সাজার দাবি তুলছেন, তা নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান, আইন সর্বদা নিজের পথেই চলবে। সাজা দেওয়ার দায়িত্ব আদালতের এবং এ বিষয়ে পুলিশই বিস্তারিত বলবে। যেহেতু আমরা একটি সভ্য সমাজে বাস করি, তাই আমাদের সমস্ত নিয়মকানুন মেনেই চলতে হবে।
পাশাপাশি ডিজে মামলায় তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কণ্ঠস্বরের নমুনা দিতে না চাওয়া প্রসঙ্গে সুকান্ত মজুমদার ব্যঙ্গাত্মক সুরে বলেন, সম্ভবত ওঁর গলা খারাপ। গানটান করতে যাবেন হয়তো! আমেরিকা যাওয়ার জন্য বারবার ভিসা চাইছেন। এখন তো আর কয়লা, বালি চলছে না, তাই গান করেই রোজগার করবেন কি না, জানি না। ওঁদের অনেকেই তো গান গাইতেন। সায়নী ঘোষ তো গান গেয়ে কাবা, মদিনা কোথায় যাওয়া টাওয়ার কথা বলত।
২১ জুলাই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের র্যালি করার অনুমতি পাওয়া প্রসঙ্গে সুকান্তবাবু স্পষ্ট জানান, বিজেপি তৃণমূলের মতো পথ নেবে না। কিন্তু আমাদের বক্তব্য, এখন দুটো তৃণমূল হয়ে গিয়েছে। কোন তৃণমূলটা র্যালি করবে? দু’ পক্ষ সামনাসামনি হয়ে মারামারি করলে কারও জীবনহানি হলে তার দায় তো আমাদের সরকারকেই নিতে হবে। তাই আমাদের সরকারকে সব ভেবেচিন্তে করতে হচ্ছে।
অন্যদিকে, রাজ্যে শিল্পায়ন নিয়ে আশাপ্রকাশ করে তিনি বলেন, আমরা চাই বাংলায় কারখানা বন্ধের ট্র্যাডিশন শেষ হোক এবং পরিযায়ী শ্রমিকরা রাজ্যে ফিরুক। তৃণমূল সাংসদ শতাব্দী রায়ের ‘দিদিকে ভালোবাসি, দিদির সঙ্গেই আছি’ মন্তব্যকে টিপ্পনী কেটে সুকান্তবাবু বলেন, তৃণমূলে এখন ‘হাম দিল দে চুকে সনম’ সিনেমা চলছে।