Bartaman Logo
২৭ মে, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ইছামতী সংস্কারে সবুজ সঙ্কেত, সমীক্ষার রিপোর্ট যাচ্ছে নবান্নে

ইছামতী সংস্কারে সবুজ সঙ্কেত, সমীক্ষার রিপোর্ট যাচ্ছে নবান্নে
  • ১২ নভেম্বর, ২০২৪ ০০:০০
নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: ইছামতী নদী সংস্কারের কোনও ইচ্ছাই নেই কেন্দ্রীয় সরকারের। তাই কেন্দ্রের উপর আর ভরসা না রেখে রাজ্য সরকারই নিজের টাকায় ইছামতী সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। প্রাথমিক পর্যায়ে সেই কাজ শুরুও হয়ে গিয়েছে। নবান্ন ইতিমধ্যেই জেলা প্রশাসনকে এ ব্যাপারে সবুজ সংকেত দিয়েছে। তারপরই নদী পরিদর্শন করেছেন সেচ, ভূমি ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা। তৈরি হয়েছে রিপোর্ট। সেই তথ্য পৌঁছে গিয়েছে জেলাশাসকের দপ্তরে। সার্বিক দিক খতিয়ে দেখে ওই রিপোর্ট নবান্নে পাঠানোর তোড়জোড় চলছে। পুজোর মরশুম কেটে গেলেই ইছামতী সংস্কারের কাজ শুরু হবে বলে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে।
Advertisement
বনগাঁ ও বসিরহাট মহকুমার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ইছামতী। দুই মহকুমার নিকাশি জল সাধারণভাবে গিয়ে পড়ে ইছামতী, যমুনা, পদ্মা নদী ও গাজনা খালে। ভারী বৃষ্টি হলেই নদীর জল উপচে ভাসিয়ে দেয় লোকালয়। জলমগ্ন হয় বিস্তীর্ণ এলাকা। প্রতি বছর এই চেনা ছবি দেখা যায় দুই মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকায়। অবশেষে সেই যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে চলেছেন দুই মহকুমার মানুষ। সেচদপ্তরের পরিদর্শনে দেখা গিয়েছে, ইছামতীর তলদেশে পলি জমে পাঁচটি বড় ঢিবি তৈরি হয়েছিল। সেকারণেই বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছিল নদীর স্বাভাবিক গতিবেগ। সেচদপ্তর সেই ঢিবির একাংশ কেটে সাফ করেছে। এর জন্য খরচ হয়েছে ৬০ লক্ষ টাকা। জরুরিকালীন পরিস্থিতিতে তখনকার মতো কাজ করা হলেও এখন সমস্যার দীর্ঘস্থায়ী সমাধানের জন্য উদ্যোগী হয়েছে জেলা প্রশাসন ও সেচদপ্তর।
জেলা প্রশাসনের একটি সূত্র থেকে জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই নবান্নের পক্ষ থেকে ইছামতী খননের ব্যাপারে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে। সংস্কারের প্রাথমিক পর্যায়ের কাজ শুরু হয়েছে। কীভাবে খনন হবে, তার রুটম্যাপ তৈরি হয়েছে। নদীতে কোন জায়গায় গভীরতা কত, তা মাপা হয়েছে। নাব্যতা কমে যাওয়ার প্রকৃত কারণ কী, তাও অনুসন্ধান করা হয়েছে। নদীকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে ডিপিআর তৈরির কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে ওই রিপোর্ট যাবে রাজ্য সরকারের কাছে। তারপরেই সেচদপ্তর কাজের অনুমতি দেবে। জেলা প্রশাসনের বক্তব্য, ইছামতীর জলস্তর যমুনা ও পদ্মার জলস্তরের নীচে রাখতে হবে। একমাত্র তাহলেই নদীর জল উপচে জনপদে ঢুকবে না। জেলা পরিষদের সভাধিপতি নারায়ণ গোস্বামী বলেন, পুজোর মরশুম কেটে গেলে ইছামতী সংস্কারের কাজ আমরা শুরু করব। এই কাজ পুরোটাই রাজ্যের সেচদপ্তরের টাকায় হবে। ফলে মানুষ দীর্ঘদিনের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাবেন। জেলাশাসক শরদ কুমার দ্বিবেদী বলেন, ইছামতী সংস্কার বা খননের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সেচ ও ভূমিদপ্তর এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা গাইঘাটা, স্বরূপনগর, বনগাঁর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। শীঘ্রই রিপোর্ট জমা দেওয়া হবে। আশা করছি, ইছামতী খননের কাজ আমরা দ্রুত শুরু করতে পারব। কত টাকা খরচ হতে পারে, কীভাবে সংস্কার হবে, তা কয়েকদিনের মধ্যেই জানানো হবে।
সম্পর্কিত সংবাদ