


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাবতীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ নিয়েই মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ কলকাতায় নাকতলার বাড়িতে ফিরলেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী, অনুগামীর শুভেচ্ছা আর জয়ধ্বনিতে চোখে জল বেহালা পশ্চিম কেন্দ্রের বিধায়কের। জেলজীবন কাটিয়ে তিনবছর তিনমাস পর বাড়ি ফিরে নিজের বসার ঘরে পার্থবাবু জানিয়ে দিলেন, ‘আমি বেহালা পশ্চিমের মানুষের কাছে দায়বদ্ধ। তাঁরা পরপর পাঁচবার আমাকে জয়যুক্ত করেছেন। বেহালার মানুষের কাছে আমার বিচার চাইব।’
সোমবারই পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি ফেরার নির্দেশ চলে আসে। এরপর যাবতীয় আইনি কাগজপত্র মিটিয়ে মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ দক্ষিণ কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতাল থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তাঁর সঙ্গে দেখা করতে এবং স্বাগত জানাতে এদিন সকাল থেকেই ওই বেসরকারি হাসপাতালের বাইরে ভিড় জমিয়েছিলেন বিভিন্ন বয়সের অসংখ্য মানুষ। তাতে শামিল ছিলেন বেহালার বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে আসা মহিলারা। এমনকি পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের ছবি দেওয়া ফ্লেক্স নিয়েও তাঁরা হাজির হয়ে যান হাসপাতাল চত্বরে। তাছাড়া এদিন বেহাল অঞ্চলে পোস্টার পড়েছে, ‘বেহালা পশ্চিমে পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে আবার চাই।’ ‘নাগরিকবৃন্দের’ তরফে ওই ফ্লেক্স বার্তা দেওয়া হয়।
বেলা আড়াইটা নাগাদ হাসপাতাল থেকে বেরোনোর সময় অনুগামীদের ভালোবাসা দেখে চোখে জল চলে আসে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের। তাঁদের হাতজোড় করে নমস্কার জানিয়ে নাকতলায় বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেয় পার্থবাবুর সাদা স্করপিয়ো গাড়ি। নাকতলার ‘বিজয়কেতন’ নামক বাড়িতে পার্থকে স্বাগত জানাতে সেখানেও অনুগামীদের ভিড় চোখে পড়েছে। ঘরের ঢোকার সময় পরিবারের লোকজন পার্থবাবুকে বরণ করে নেন। পরে বসার ঘরে শুভানু্ধ্যায়ীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি। অনেকেই পার্থবাবুকে দেখে কেঁদে ফেলেন। তখন পার্থবাবুরও চোখের জল বাঁধ মানেনি। অনুগামীরা বলতে থাকেন, ‘বেহালার নবরূপকার পার্থ চট্টোপাধ্যায়। সিপিএমের সন্ত্রাস থেকে বেহালাকে যিনি আলোকিত করেছেন, তিনি পার্থ চট্টোপাধ্যায়।’ পরে পার্থবাবু বলেন, ‘আইনের পথে জয় হয়েছে। একদিন সত্যের জয় হবেই। আইনের প্রতি আমার আস্থা ছিল। সেই আস্থা অটুট। আগামী দিনেও সত্যের জয় হবে।’
ঘরে ফিরে প্রিয় পোষ্য ‘চোকো’ নামক কুকুরের সঙ্গেও সময় কাটাতে দেখা গিয়েছে পার্থবাবুকে। তিনি যে কুকুরপ্রেমী, তা সকলেই জানেন। নাকতলা অঞ্চলের বেশ কয়েকজন তৃণমূল কর্মী এদিন পার্থবাবুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসেন। তাঁদের সঙ্গে রাজনৈতিক কিছু কথাবার্তা হয়েছে। বেহাল পশ্চিমের মানুষের পাশে থেকে আবারও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড শুরু করতে চলেছেন, এমন ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছে। তবে তৃণমূলের শীর্ষ স্তরের কোনও নেতাকে নাকতলায় পার্থবাবুর বাড়িতে দেখা যায়নি। পার্থবাবুর সঙ্গে ফোনে তাঁদের কথা হয়েছে, এমন খবরও নেই।
নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় ২০২২ সালের ২৩ জুলাই গ্রেপ্তার হন পার্থ চট্টোপাধ্যায়। তারপর ২৮ জুলাই মহাসচিবসহ দলের সব পদ থেকেও সাসপেন্ড করা হয় তাঁকে। সেদিনই দলের তরফে বলা হয়েছিল, আইনি পথে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে হবে পার্থবাবুকে। অন্যদিকে, মন্ত্রী থাকাকালীন নবান্ন ও বিধানসভায় পার্থবাবুর যেসব ঘর বরাদ্দ ছিল সেগুলি এখনও বন্ধ। আগামী শীতকালীন অধিবেশনে পার্থ চট্টোপাধ্যায় বিধানসভায় যাবেন বলেই খবর। বাড়িতে পোষ্যের সঙ্গে পার্থ। -নিজস্ব চিত্র