ফ্লোর টেস্টে ২৭৫ বিধায়কের  সমর্থন পাব! দাবি মুখ্যমন্ত্রীর
  • ২৩ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বিজেপির এখন বিধায়ক সংখ্যা ২০৯। দুই তৃণমূল মিলিয়ে বিধায়ক আছেন ৮০ জন। কংগ্রেস বিধায়ক দুজন। একজন করে বিধায়ক আছেন সিপিএম, আইএসএফ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি থেকে। রাজ্যে বিধায়ক সংখ্যা নিয়ে দুর্গাপুজোর মধ্যে তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর দাবি, বিধানসভায় ফ্লোর টেস্ট বা বিধায়কদের আস্থাভোট নেওয়া হলে ২৭৫ জনের ভোট পাব!
বিধানসভা নির্বাচনের ছয়মাসের মধ্যে শুভেন্দুর এই মন্তব্য নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়ে গিয়েছে রাজনৈতিক মহলে। সরাসরি ঋতব্রত তৃণমূলকে তাক করেই সরব মমতা তৃণমূল। বিজেপির থেকে দূরত্ব বজায় রাখার পালটা সাফাই দিচ্ছে ঋতব্রত গোষ্ঠী। ফলে পুরভোটের আগে ফের তপ্ত বাংলার রাজনৈতিক মহল।
৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হয়। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত হয়েছে দুটি বিধানসভা আসনের উপনির্বাচন। সব মিলিয়ে এখন বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা ২০৯। বিধানসভা নির্বাচনের পর সাবেক তৃণমূল ভেঙে তিন টুকরো হয়! তৃণমূল বিধায়করা ভাগ হয়ে যান দুই ভাগে। অন্যদিকে, বিদ্রোহী তৃণমূল সাংসদরা যোগ দেন আনকোরা দল এনসিপিআইতে। বিধানসভা নির্বাচনে জোড়াফুল টিকিটে ৮০ জন বিধায়ক নির্বাচিত হন। পরবর্তীকালে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৬৫ জন বিধায়ক গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসে শামিল হন। আর মমতা তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে আছেন ১৫ জন বিধায়ক। ঋতব্রত গোষ্ঠী থেকে ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকজন মমতা শিবিরের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন বলে দাবি কালীঘাটের নেতাদের। মমতাপন্থী একাধিক নেতা প্রথম থেকেই বলে আসছেন, বিজেপির কথামতোই নড়ছে চড়ছে ঋতব্রত গোষ্ঠী। 
ঠিক এই প্রেক্ষাপটেই আলোড়ন ফেলে দিয়েছে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্তব্যটি। তিনি বলেন, ওদের মধ্যে ৬৪ জন আমার পক্ষে হাত তোলার জন্য বসে আছেন। আমাদের এখন ২০৯ জন বিধায়ক হয়ে গিয়েছেন। এই মুহূর্তে বিধানসভায় ফ্লোর টেস্ট হলে ২৭৫টি ভোট পাব! শুভেন্দুর বক্তব্যকে সমর্থন করে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, বিধানসভার ভিতরে মুখমন্ত্রীর বক্তব্যই চূড়ান্ত। বাকি কোন দলের কে আছেন, কে থাকবেন, কে থাকবেন না, তা নিয়ে কোনো মন্তব্য করব না।
শুভেন্দুর মন্তব্যকে হাতিয়ার করেই ঋতব্রত গোষ্ঠীর দিকে সরব হতে দেরি করেনি মমতা তৃণমূল। মুখপাত্র কুণাল ঘোষ বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি বিজেপির সঙ্গে গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ রয়েছে। ওরা বিজেপির পোষা। বিজেপির দালাল। ওইসঙ্গে এও বলছি, বিজেপির মাত্র ছয়মাসের শাসনকালে মানুষ বীতশ্রদ্ধ হয়ে গিয়েছেন। গোপন ব্যালটে ভোট হলে বিজেপি বিধায়করাই ওদের দলের পক্ষে ভোট দেবেন না।
ঋতব্রত গোষ্ঠীর গণতান্ত্রিক তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা আখরুজ্জামান বলেন, বিজেপি আলাদা দল। আমরা আলাদা দল। বিজেপির সঙ্গে সমদূরত্ব বজায় রাখাই আমাদের মূল লক্ষ্য। বিজেপির সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে আমাদের মধ্যে কোনো আলাপ-আলোচনা হয়নি।

Advertisement