নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাকপুর: বারাকপুর পুরসভার প্রাক্তন চেয়ারম্যান উত্তম দাস এবং টিটাগড়ের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রশান্ত চৌধুরীকে বিজেপি নেতা মণীশ শুক্লা খুনের মামলায় তদন্তের আওতায় আনতে মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি পাঠানো হল। সোমবার বারাকপুরের বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানিয়ে উত্তম দাসের পুজো উদ্বোধনে মন্ত্রী অর্জুন সিং ও মণীশের বাবা চন্দ্রমণি শুক্লা যাওয়ার সমালোচনা করতে ছাড়েননি। পাশাপাশি তাঁর হুমকি, ‘উত্তম দাস বিজেপিতে ঢুকলে বিজেপি রাজ্য অফিসের সামনে কেরোসিন তেল ঢেলে আত্মহত্যা করব’। পালটা সাংবাদিক সম্মেলন করলেন চন্দ্রমণিও।
উত্তম দাসের দুর্গাপুজোর উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন অর্জুন সিং ও চন্দ্রমণি। তা নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে কৌস্তভ বলেন, মণীশ খুনের এফআইআরে প্রথম নাম ছিল প্রশান্ত চৌধুরী এবং দ্বিতীয় নাম ছিল উত্তম দাসের। প্রথম চার্জশিটে তাঁকে ‘সাসপেক্ট’ হিসাবে দেখানো হয়। তৃণমূল সরকার থাকায় তাঁরা তদন্তের বাইরে চলে যান। তাই মুখ্যমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজি সিআইডি এবং পুলিশ কমিশনারকে চিঠি লিখে এই দুজনকে তদন্তের আওতায় নিয়ে আসার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু সেই উত্তম দাসের পুজোতে সিনিয়র লিডারদের মঞ্চে দেখে ছবিটা ভালো লাগেনি।
চন্দ্রমণি শুক্লা পালটা সাংবাদিক বৈঠক করে বলেন, মণীশকে ভিত্তি করে বারাকপুরে রাজনীতিতে কেউ কেউ জায়গা পাকা করতে চাইছেন। অথচ যখন মণীশ খুনের সময় কোনো আইনজীবী পাইনি। কৌস্তভ বাগচীর কাছে গেলে প্রথমে রাজি হন, পরে জানিয়ে দেন লড়বেন না। উত্তম দাস বলেন, মণীশের সঙ্গে আমার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক। এফআইআরে নাম ছিল ঠিকই। সিআইডি তদন্ত করে চার্জশিট থেকে নাম বাদ দিয়েছে। আমি বিজেপিতে যোগ দেব কবে বলেছি? চেয়ারম্যান পদ ছাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তৃণমূল ছেড়েছি। অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ছিল আছে থাকবে। অর্জুন সিং শুধু বলেছেন, বারাকপুরের রাজনীতিটা আমি ভালোই বুঝি।



