


ডাঃ জয় সাহা: তখন দুপুর দু’টো মতো বাজে। আমার ডিউটি ছিল মেডিক্যাল কলেজের ট্রমা সেন্টারে। কলেজ কর্তৃপক্ষ ফোন করে জানাল, ভয়ঙ্কর দুর্ঘটনা ঘটেছে। প্রচুর মানুষ আহত হয়েছেন। সবদিক থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে। এর কিছুক্ষণের মধ্যেই একটার পর একটা মৃতদেহ আসতে শুরু করল। সেখানেই দেখলাম আমাদের কলেজের চারজন পড়ুয়ার নিথর দেহ। দু’জন ফার্স্ট ইয়ার আর দু’জন সেকেন্ড ইয়ারের। তারপর একে একে আসতে শুরু করলেন আহতরা। কারও মাথায়, কারও পায়ে গুরুতর চোট। অনেকে আবার অগ্নিদগ্ধও হয়েছেন। আমাদের কলেজের ছাত্রদের দেহগুলিও আংশিক পুড়ে গিয়েছিল। কারও কারও সম্ভবত হার্ট অ্যাটাকও হয়ে থাকতে পারে। সকাল থেকে ক্লাস করার পর দুপুর ১টা থেকে দু’টোর মধ্যে ওরা লাঞ্চ করতে হস্টেলে গিয়েছিল। দুপুরবেলা ক্লাস থেকে ফিরে একসঙ্গে ৫০ জন খেতে বসেছিল। তখনই বাড়িটার উপর ভেঙে পড়ে প্লেন। দৃশ্যটা ভাবলেই শিউরে উঠছি।
আমাদের হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজের এক কিলোমিটারের মধ্যেই থাকার ব্যবস্থা, ক্যান্টিন সহ আনুষঙ্গিক সবকিছু রয়েছে। এইজন্য একে ‘মেডিসিটি’ বলা হয়। ওই ১ কিলোমিটারের মধ্যেই ছিল পোস্ট ডক্টরাল ট্রেনিদের হস্টেল। আর ঠিক তার পাশেই ক্যান্টিন। দাদা-দিদিদের ডিউটির সময়টা মোটামুটি বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত চলে। কিন্তু, ওখানে তো ওঁরা পরিবার নিয়ে থাকতেন। একজনের স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। আরেক জনের স্ত্রী-সন্তান আইসিইউতে ভর্তি। অন্তত ৬০ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। প্লেনের একটা বড় অংশ পিডিটি’র সাততলা হস্টেলের উপর পড়ে। মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাড়িটা। ভিতরে যে কতজন আটকে আছে... এখন শুধু যুদ্ধকালীন তৎপরতায় জখমদের বাঁচানোর জন্য লড়ে যেতে হবে আমাদের। সময় খুব কম। (লেখক: তৃতীয় বর্ষের রেসিডেন্ট পিজিটি ও আহতদের চিকিৎসায় নিযুক্ত)