সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: ‘তোর মেসোমশাইকে মার্ডার করে দিয়েছি। এখান থেকে বডি তুলে নিয়ে যা।’ বুধবার রাতে প্রশান্ত দে’র শ্যালিকার ছেলে মেসোমশাইয়ের ফোনে কল করতেই ওপার থেকে এ কথাই বলেছিল আততায়ীরা। বৃহস্পতিবার সকালে বাড়িতে বসে কান্নাভেজা গলায় এ কথা শোনালেন প্রশান্তবাবুর স্ত্রী সোমা দে।
বাগনান ২ নম্বর ব্লকের বাঁটুল পুকুর ধারে রাখি ব্যবসায়ী প্রশান্ত দে’র বাড়ি। তিনি এলাকায় বিজেপি কর্মী হিসাবেই পরিচিত। আগে তেমন সক্রিয় না হলেও রাজ্যে পালাবদলের পর গেরুয়া পার্টির বিভিন্ন কর্মসূচিতে তাঁর অংশগ্রহণ চোখে পড়ত। বর্তমানে তিনি ছিলেন দলের বুথ সভাপতি। এদিন তাঁর বাড়ির সামনে দেখা গেল প্রতিবেশীদের জটলা। স্বামীকে হারিয়ে কার্যত শোকে পাথর সোমাদেবী। কথা প্রসঙ্গে বলেন, ‘কিছুদিন হল ও পার্টি নিয়ে বেশি মাতামাতি করছিল। বলেছিলাম দিনকাল ভালো নয়, চারদিকে গণ্ডগোল। সাবধানে পার্টি কর। ও বলেছিল, এখন হাতে রাখি তৈরির কাজ কম। যখন কাজ বাড়বে, তখন আর দলকে সময় দিতে পারব না।’
সোমাদেবীর কথায়, ‘বুধবার ব্লকে জনকল্যাণ শিবিরে গিয়েছিলেন স্বামী। বিকাল সাড়ে ৩টে নাগাদ বাড়ি ফিরে রাখি তৈরি করতে বসেছিল। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ অন্যান্য দিনের মতো বড়ি থেকে বেরিয়ে আড্ডা মারতে যায়। বাড়ি ফিরতে দেরি হচ্ছে দেখে ফোন করলে প্রশান্ত বলে, বাগনানে আছি ফিরতে একটু রাত হবে। পরে রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ বোনপো ফোন করলে ওপার থেকে বলা হয়, তোর মেসোমশাইকে মার্ডার করে দিয়েছি, এখান থেকে বডি তুলে নিয়ে যা। সেই সময় ফোনের ওপার থেকে চিৎকার শোনা যায়। দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে এখন কী করব, ভেবে পাচ্ছি না। দোষীদের কঠোর শাস্তি দাবি করেন তিনি।