সংবাদদাতা, বনগাঁ: পণের দাবিতে স্ত্রীকে মারধর ও ঘুমের ওষুধ খাইয়ে খুনের অভিযোগে স্বামীকে গ্রেপ্তার করল গোপালনগর থানার পুলিশ। গত ১৮ আগস্ট গৃহবধূ সুপর্ণা ঘোষালের (চক্রবর্তী) মৃত্যু হয়। গৃহবধূর মায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সুপর্ণার স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের নাম প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী। ধৃতকে শুক্রবার বনগাঁ আদালতে তোলা হলে বিচারক পুলিশ হেপাজতের নির্দেশ দেন।
জানা গিয়েছে, পাঁচ বছর আগে গোপালনগর শুল্ক দুর্গাপুরের বাসিন্দা অস্থায়ী হোমগার্ড প্রসেনজিতের সঙ্গে স্থানীয় ভাণ্ডারখোলার বাসিন্দা সুপ্রিয়া ঘোষালের বিয়ে হয়। তাঁদের দু’বছরের এক মেয়ে রয়েছে। মৃতার পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের সময় দাবি মতো দান সামগ্রী ও নগদ টাকা দেওয়া হলেও শ্বশুরবাড়িতে সুপর্ণার উপর অত্যাচার করা হত। নেশা করে বাড়ি ফিরে প্রায়ই পণের দাবিতে স্বামী মারধর করত তাঁকে। বাপের বাড়ি থেকে টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হত। এমনকি অসুস্থ হলেও সুপর্ণাকে চিকিৎসা করানো হত না বলে বাপের বাড়ির লোকের অভিযোগ।
তাঁদের অভিযোগ, গত ১৮ আগস্ট স্বামী, শাশুড়ি ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন সুপর্ণাকে বেধড়ক মারধর করে। বাপের বাড়ির সদস্যরা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও মেয়ের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি। স্থানীয়দের কাছ থেকে তাঁরা জানতে পারেন, সুপর্ণাকে হাসপাতালে ভরতি করা হয়েছে। সেখান থেকে কলকাতার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই মৃত্যু হয় গৃহবধূর। মৃতার বাপের বাড়ির লোকজনের দাবি, মারধর করার পর জোর করে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে সুপর্ণাকে খুন করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ অভিযুক্ত স্বামীকে গ্রেপ্তার করেছে। বাকিদের খোঁজে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।