


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: পণের দাবিতে নির্যাতনের কারণেই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। জামাইয়ের বিরুদ্ধে এমনই অভিযোগ এনেছিলেন শাশুড়ি। কিন্তু মামলার শুনানি চলাকালীন অভিযোগকারিণী শাশুড়ি সাক্ষ্য দিতে গিয়ে বেঁকে বসেন। অন্যান্য সাক্ষীর বয়ানেও ছিল নানা অসঙ্গতি। সব মিলিয়ে আদালতের কাছে বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়েছে। সেকারণেই মঙ্গলবার জামিনে থাকা অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন কলকাতার বিচারভবনের ফাস্ট ট্র্যাক আদালতের বিচারক।
মুক্তিপ্রাপ্ত যুবকের আইনজীবী ফজলে আহমেদ খান বলেন, ‘আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে যে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল, আদালতের রায়েই তা প্রমাণিত। আদালত থেকে ন্যায় বিচার পেয়ে ভালো লাগছে।’ আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৭ সালে তালতলা থানায় মৃতার মা অভিযোগটি দায়ের করেছিলেন। তাতে তিনি বলেছিলেন, পণের জন্য লাগাতার নির্যাতনের ফলেই মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ নির্দিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করে তদন্তে নামে। পরে এই মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়। শুনানি চলাকালীন অভিযুক্তের আইনজীবী আদালতে সওয়াল করেন, যিনি মারা গিয়েছেন সেই গৃহবধূ অসুস্থ ছিলেন। তাহলে তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত নথিপত্র কোথায় গেল? কেন তা আদালতের কাছে পেশ করা হল না? ওই সমস্ত তথ্যকে বেমালুম চেপে
গিয়ে শুধুমাত্র নির্যাতনের বিষয়টিকে সামনে নিয়ে আসা হয়েছে। তাই আমাদের মনে হয়েছে, আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আনা হয়েছে, তা সঠিক নয়। যদিও এ বিষয়ে জোরালো কোনো তথ্য‑প্রমাণ পেশ করতে পারেনি সরকারপক্ষ। উভয়পক্ষের সওয়াল ও অন্যান্য নথি খতিয়ে দেখে বিচারক অভিযুক্তকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেন।