


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নকল ওয়েবসাইট বানিয়ে বিনিয়োগ ও বন্ড পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে কলকাতা সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে চলছিল প্রতারণা। অভিযুক্ত নিজেকে আরবিআই-এর শীর্ষকর্তা বলে পরিচয় দিতেন। প্রতারণার টাকা জমা করা হতো ‘ভাড়া’ নেওয়া অ্যাকাউন্টে। এভাবে কয়েক কোটি টাকা হাতিয়ে শেষ পর্যন্ত মুম্বইয়ের পানভেল সিটি পুলিসের হাতে ধরা পড়ে গেলেন ষাটোর্ধ্ব অভিযুক্ত ভাস্কর চৌধুরী। শনিবার রাতে মহেশতলা এলাকা থেকে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিস। ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে মুম্বই নিয়ে যাচ্ছে তারা।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে পানভেল থানায় এক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বন্ড কেনার ফাঁদে পড়ে দু’কোটি টাকা খুইয়েছেন তিনি। সেই বন্ড আরবিআই-তে যাচাই করতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তারা কোনও বন্ড ইস্যু করে না। অভিযোগকারীকে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে যুক্ত করা হয়েছিল। সেই গ্রুপের প্রোফাইল পিকচারে দেওয়া ছিল আরবিআইয়ের লোগো। গ্রুপের অ্যাডমিন নিজেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বড় আধিকারিক বলে পরিচয় দেন। ওই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিস।
তদন্তে নেমে তারা দেখে, শুধু বন্ড নয়, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিভিন্ন স্কিমে বিনিয়োগের টোপ দিয়েও জালিয়াতি করা হয়েছে। রিজার্ভ ব্যাঙ্কে জমা দিতে হবে বলে গ্রুপে থাকা বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে তাঁদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের নথি চাওয়া হতো। এভাবে তথ্য হাতিয়ে অ্যাকাউন্ট সাফ করে দিত প্রতারক। শুধু মহারাষ্ট্র নয়, পশ্চিমবঙ্গ, দিল্লি, ওড়িশা সহ একাধিক রাজ্যের মানুষ প্রতারিত হয়েছেন। হোয়াটঅ্যাপে যে গ্রুপ তৈরি করা হয়েছিল, সেখান থেকে প্রতারকদের প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়। দেখা যায়, সিমগুলি অন্যদের নামে নেওয়া হয়েছে। সেই সিম কার্ড কাজে লাগিয়ে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। সেই সব অ্যাকাউন্টেও জমা পড়েছে প্রতারণার টাকা। অ্যাকাউন্টগুলির ‘ট্রেল’ বিশ্লেষণ করতে গিয়ে তদন্তকারীরা দেখেন, একটি অ্যাকাউন্ট পশ্চিমবঙ্গের মহেশতলা এলাকার। অ্যাকাউন্টটির মালিক জনৈক ভাস্কর চৌধুরী। এই ব্যক্তিই নিজেকে রির্জাভ ব্যাঙ্কের বড় কর্তা বলে পরিচয় দিতেন। এরপরই পানভেল পুলিসের টিম কলকাতায় পৌঁছে অভিযুক্তকে মহেশতলা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে। ধৃতকে রবিবার আলিপুর আদালতে তোলা হলে ‘লিগ্যাল এইড’-এর আইনজীবী সৈকত রক্ষিত বলেন, অভিযুক্ত ঘটনায় জড়িত, এমন কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাই জামিন দেওয়া হোক। সরকারি আইনজীবী বলেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নাম করে বিপুল টাকা তুলেছেন অভিযুক্ত। সওয়াল শেষে ধৃতকে ট্রানজিট রিমান্ডে মুম্বই নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন বিচারক।
ধৃতকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তদন্তকারীরা জেনেছেন, রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নকল ওয়েবসাইট তিনিই খুলেছিলেন। তিনিই রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নাম করে বিভিন্ন ব্যক্তিকে বন্ড কেনা বা বিনিয়োগের টোপ দিতেন। কেউ রাজি হলে তাঁকে গ্রুপে যুক্ত করে বোঝানো হতো কোন বন্ড কেনা লাভজনক বা কোথায় বিনিয়োগ করলে ভালো রিটার্ন মিলবে। এই কায়দায় তিনি ৫০ কোটিরও বেশি টাকা হাতিয়েছেন বলে অভিযোগ।