নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পরিষদ কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের বিশ্বকর্মা পুজো ঘিরে উন্মাদনা দেখা গেল। বুধবার মেদিনীপুর শহরের ধর্মায় পুজোর উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক তথা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি অজিত মাইতি, জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মল ঘোষ সহ বিশিষ্টরা। জানা গিয়েছে, তিনদিন ধরে সংগঠনের সকলে পুজোয় মাতবেন। সাধারণ মানুষের জন্য প্রসাদের ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রায় আটশো মানুষকে প্রসাদ বিতরণ করা হবে। উদ্যোক্তারা জানাচ্ছেন, আগামী বছর বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। একইসঙ্গে দুর্গাপুজোর সময়ও একাধিক কর্মসূচি রয়েছে।
বিধায়ক অজিতবাবু বলেন, এটাই বাংলার সংস্কৃতি। সারা জেলার মানুষ এই পুজোয় মেতে উঠেছেন।
এই পুজোয় প্রচুর মানুষ অংশ নিয়েছেন। জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নির্মলবাবু বলেন, সংগঠনের পাশে সর্বদা থাকব। সংগঠনের সভাপতি আজিজুল হক ও সহ সভাপতি গৌতম ঘোষ বলেন, সাবেকি নিয়ম মেনেই পুজো হয়েছে। আগামী দিনে থিমের পুজো করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০১৬ সালে এই সংগঠন তৈরি হয়। মূলত ঠিকাদারদের পাশে দাঁড়াতেই এই সংগঠনের সূচনা হয়েছিল। প্রথমদিকে তাদের কোনও অফিসঘর ছিল না। সেইসময় জেলা পরিষদেই তাঁরা সংগঠনের কাজকর্ম চালাতেন। বর্তমানে তাঁদের অফিসঘর তৈরি হয়েছে। জানা গিয়েছে, সংগঠনের সদস্যরা জেলা পরিষদের উদ্যোগে হওয়া বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করেন। তবে শুধু পুজো নয়, সমাজ সেবামূলক কাজেও এগিয়ে এই সংগঠনের সদস্যরা। তাঁদের উদ্যোগে প্রতি বছর রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। এছাড়া দুঃস্থদের বস্ত্রদানের আয়োজনও করা হয়। সংগঠনের সহকারী সম্পাদক সুরজ গায়েনের কথায়, একজন ঠিকাদার সমস্যায় পড়লে সকলেই পাশে এসে দাঁড়ান। আমাদের মূল মন্ত্র হচ্ছে একতা।
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, সংগঠনের সদস্যরা কেউ অসুস্থ হলেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেন। একইসঙ্গে কাজ নিয়েও তাঁরা দায়িত্বশীল। সংগঠনের সম্পাদক কেষ্ট মালাকার বলেন, প্রথমদিকে সংগঠনের সদস্য কম ছিল। কিন্তু দিনে দিনে সদস্য সংখ্যা বেড়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগে থেকেই পুজোর আয়োজন শুরু হয়েছিল।-নিজস্ব চিত্র