নিজস্ব প্রতিনিধি ও সংবাদদাতা: যুবসাথীর ক্যাম্পে বিজেপির প্রধান। রবিবার জলপাইগুড়ি জেলার রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির মাঠে যুবসাথীর ক্যাম্পে যোগ দেন কুকুরজান অঞ্চলের বিজেপি প্রধান গোপাল পোদ্দার। তিনি পরিবারের সদস্যদের লাইনে দাঁড় করিয়ে প্রকল্পের ফর্ম ফিলআপ করান। ভোটমুখী উত্তরবঙ্গে প্রধানের এমন অবস্থানে বেকায়দায় পদ্ম শিবির। এরবাইরে উত্তরবঙ্গের অন্যত্র ক্যাম্পে ছিল ঠাসা ভিড়। রবিবাসরীয় ছুটির দিন অন্য মেজাজে কেটেছে বলেই যুবক-যুবতীরা জানান। এনিয়ে উচ্ছ্বসিত জোড়াফুল শিবির।
জলপাইগুড়ি জেলার প্রতিটি ব্লকে যুবসাথীর ক্যাম্প হয়। সেগুলির মধ্যে রাজগঞ্জ পঞ্চায়েত সমিতির মাঠে আয়োজিত ক্যাম্প উল্লেখযোগ্য। সকাল থেকেই ক্যাম্পে সক্রিয় ছিলেন কুকুরজান অঞ্চলের বিজেপি প্রধান। কিছুক্ষণ পর দেখা যায় ক্যাম্পের লাইনে প্রধানের ছেলে, ভাইপো ও ভাইঝিকে। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। এনিয়ে প্রধান বলেন, যুবসাথী রাজ্য সরকারের নয়া প্রকল্প। পঞ্চায়েতের প্রধান হিসেবেই সরকারি প্রকল্পের প্রচারে ছিলাম।
একইসঙ্গে গেরুয়া শিবিরের ওই প্রধানের মন্তব্য,ভাইপো কলকাতায় ইঞ্জিনিয়ারিং পড়েছে। এখনও চাকরি পায়নি। সেকারণে সরকারি প্রকল্প যুবসাথীর ফর্ম জমা দিয়েছে। ভাইঝি ও ছেলেও প্রকল্পের ফর্ম ফিলআপ করেছে। যদিও সন্ধ্যায় প্রধানের দাবি, ভাইপো নয়, ভাইঝি প্রকল্পের ফর্ম জমা করেছে।
ভোটের মুখে এটাকেই হাতিয়ার করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। দলের রাজগঞ্জ ব্লক সভাপতি অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায়ের সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলি নিয়ে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতারা। কিন্তু বাস্তবে তাঁরাও জানেন, প্রকল্পগুলি সাধারণ মানুষের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ। আর সেকারণেই এদিন যুবসাথীর ক্যাম্পে সপরিবারে বিজেপি প্রধান হাজির ছিলেন।
এদিন দার্জিলিং ও কালিম্পং পাহাড়, শিলিগুড়ি, কোচবিহার ও আলিপুরয়ারেও যুবসাথীর ক্যাম্প হয়েছে। শিলিগুড়ি শহরের বাঘাযতীন পার্ক, মাটিগাড়া সহ পাহাড় ও সমতলে ১৩টি জায়গায় ক্যাম্প হয়েছে। প্রশাসন সূত্রের খবর, প্রথমদিনে আবেদন করেছেন ৬৯৮০ জন। বাঘাযতীন পার্কে লাইনে দাঁড়ানো কয়েকজন যুবক বলেন, মাধ্যমিক পাশ করার পরও তেমন কোনো কাজ মেলেনি। তাই যুবসাথী প্রকল্পে আবেদন করতে এসেছি। বেকারদের জন্য এই উদ্যোগ প্রশংসনীয়।
ফাঁসিদেওয়া, খড়িবাড়ি ও নকশালবাড়িতে সহায়তা ক্যাম্প করেছে জোড়াফুল শিবির। তারা যুবক-যুবতীদের ফর্ম ফিলআপে সহায়তা করছে। ধূপগুড়িতেও তৃণমূলের সহায়তা কেন্দ্র দেখা গিয়েছে। মাটিগাড়া পঞ্চায়েত সমিতির সহকারী সভাপতি তৃণমূলের সুশান্ত ঘোষ বলেন, এদিন উৎসবের মেজাজে যুবক-যুবতীরা যুবসাথী’র ফর্ম পূরণ করেছেন। এবার ভোটে এই প্রকল্পই উত্তরবঙ্গের মাটি থেকে উচ্ছেদ করবে বিজেপিকে।
এদিন কোচবিহার জেলায় ৩৪টি ক্যাম্প হয়েছে। যারমধ্যে কোচবিহার শহরের রবীন্দ্রভবনে ও গুঞ্জবাড়ির পঞ্চানন ভবনে ক্যাম্প হয়। সকাল থেকেই ক্যাম্পগুলিতে ভিড় ছিল। হলদিবাড়ি কৃষক বাজারে শিবিরের উদ্বোধন করেন বিডিও রেঞ্জি লামু শেরপা। কোচবিহারের জেলাশাসক রাজু মিশ্র, মহকুমাশাসক গোবিন্দ নন্দী বিভিন্ন ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। আলিপুরদুয়ারেও ছিল একই ছবি।
• শিলিগুড়িতে তোলা নিজস্ব চিত্র।