নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হাওড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি ও সহ সভাধিপতির বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব জমা পড়ার ২৪ ঘণ্টা পরেও পদত্যাগ করলেন না কেউই। বৃহস্পতিবার তাঁদের স্পষ্ট বক্তব্য, আনুষ্ঠানিকভাবে অনাস্থার চিঠি হাতে না পাওয়া পর্যন্ত ইস্তফার প্রশ্নই ওঠে না। একইসঙ্গে স্বজনপোষণ ও দুর্নীতির যাবতীয় অভিযোগ খারিজ করে দিয়েছেন জেলা পরিষদের সহ সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ভূয়সী প্রশংসাও শোনা যায় তাঁর মুখে।
বুধবার জেলা পরিষদের সদস্য তুষারকান্তি ঘোষের নেতৃত্বে ২৮ জন সদস্যের স্বাক্ষর সহ অনাস্থা প্রস্তাব প্রেসিডেন্সি বিভাগের হাওড়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিভিশনাল কমিশনারের কাছে জমা পড়ে। সেই ঘটনার ২৪ ঘণ্টা পরেও সভাধিপতি কাবেরী দাস ও সহ সভাধিপতি অজয় ভট্টাচার্য পদে বহাল রয়েছেন। তাঁদের বক্তব্য, সংবাদমাধ্যম মারফত অনাস্থার খবর পেলেও লিখিতভাবে এখনও কিছু জানানো হয়নি। চিঠি পেলেই তাঁরা পদত্যাগ করবেন। সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যই শেষ পর্যন্ত বোর্ড পরিচালনা করবেন বলে জানান তাঁরা। দুর্নীতি ও স্বজনপোষণের অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে অজয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘জেলা পরিষদের ৪২ জন সদস্যই আমাদের স্বজন। এতদিন কেউ এই অভিযোগ তুললেন না কেন?’ তাঁর দাবি, ‘২০২৩ সালে বোর্ড গঠনের পর থেকে নিয়ম মেনেই প্রতি মাসে ১০টি স্থায়ী সমিতির বৈঠক, তিন মাস অন্তর সাধারণ সভা এবং ছ’মাস অন্তর জেলা সংসদের সভা হয়েছে। সমস্ত উন্নয়নমূলক কাজের আগে অ্যাকশন প্ল্যান তৈরি হয়েছে এবং এডিএম ও ফিনান্স কমিটির আধিকারিকদের উপস্থিতিতে স্বচ্ছতার সঙ্গে কাজ হয়েছে। এমনকি, এইসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্তের জন্য মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী চাইলে বিশেষ অডিটও করাতে পারেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
এরপরেই মুখ্যমন্ত্রীর প্রশংসায় সরব হয়ে অজয়বাবু বলেন, ‘শুভেন্দু বাপের ব্যাটার মতো কাজ করেছেন। গত পাঁচ বছর লড়াই করে তিনি ক্ষমতায় এসেছেন।’ একইসঙ্গে প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ রায়ের নাম না করে তাঁর কটাক্ষ, ‘দীর্ঘ বছর বিধায়ক-মন্ত্রীর পদ ভোগ করে অনেকেই এখন ভালো তৃণমূল সাজতে চাইছেন, কিন্তু আমি সুযোগ বুঝে পালানোর লোক নই।’ তাঁর আরও দাবি, জেলা পরিষদে যাতে দুর্নীতি ঢুকতে না পারে, সেজন্য গত চার বছর কোনো ‘অ্যাজ মেড প্ল্যান’ অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এমনকি, দল ক্ষমতায় না থাকলেও জেলা পরিষদের তহবিলে ৩৬ কোটি টাকা রয়েছে, যাতে আগামী দিনে উন্নয়নের কাজে কোনো বাধা না আসে। -নিজস্ব চিত্র