


বেলুড় মঠ, হাওড়া ব্রিজ থেকে কথাশিল্পী শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের বাড়ি। সিরাজবাটি চক্রের আমতা আওড়গাছি স্কুলের দেওয়ালে দেওয়ালে শোভা পাচ্ছে বটানিক্যাল গার্ডেন, বিদ্যাসাগর সেতু, হাওড়া স্টেশন থেকে শুরু করে জনপ্রিয় পিকনিক স্পট গাদিয়াড়া বা গড়চুমুক। বাদ যায়নি মা মেলাই চণ্ডী মন্দিরও। মহানগর কলকাতার পাশের জেলা হাওড়ায় রয়েছে বহু ঐতিহ্যবাহী মন্দির, দর্শনীয় স্থান, মিনি জু। কারও কাছে তা অত্যন্ত সুপরিচিত। কেউ আবার সে ব্যাপারে একেবারেই অজ্ঞ। তাই আমজনতার মধ্যে জেলার অতীত এবং সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে নেওয়া হয়েছে অভিনব উদ্যোগ—‘প্রাচীর চিত্রে হাওড়ার পর্যটন’। এর ফলে শিশুকাল থেকেই যেমন পড়ুয়ারা নিজের জেলা সম্পর্কে জ্ঞাত হবে, তেমনই আবার পথচলতি মানুষ আরও একবার হাওড়াকে চিনবেন নতুনভাবে। বিদ্যালয়ের ফুলের বাগানের তিনদিকে রয়েছে প্রাচীর। তার গায়ে আঁকা রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানের ছবি। কেন এই উদ্যোগ? জানা গিয়েছে, নানান সময় শহরের নানা প্রান্তে বিভিন্ন চিত্র প্রদর্শনী হয়। তাতে এইসব দর্শনীয় স্থানের ছবিও শোভা পায়। তবে প্রদর্শনী শেষ হওয়ার কিছুদিন পর থেকেই কালের নিয়মে মানুষ ধীরে ধীরে সেই ঐতিহ্য-গাথা ভুলতে শুরু করেন। সেই কারণেই গ্রামীণ হাওড়ার এই ছোট্ট স্কুলের কর্তাব্যক্তিরা এই বুদ্ধি বের করেছেন। স্কুলের প্রশংসায় পঞ্চমুখ জেলাবাসী থেকে রাজ্যের নানা প্রান্তের মানুষ। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রদীপরঞ্জন রীত বলেন, ‘নিজের জেলা হাওড়া সম্পর্কে শিশুদের ওয়াকিবহাল করা, তাদের মধ্যে ভ্রমণপিপাসা ও অনুসন্ধিৎসা জাগিয়ে তোলাই আমাদের উদ্দেশ্য। বিদ্যালয়ের আর একটাই কাজ বাকি। পড়ুয়াদের এই স্থানগুলিতে নিয়ে গিয়ে শিশুমনের আরও নানা প্রশ্নের উত্তর উদ্ঘাটনে সহায়তা করা।’স্কুলের দেওয়ালে এইসব সুন্দর ছবি কে ফুটিয়ে তুললেন? জানা গেল সেগুলি শিল্পী পলাশ ভাণ্ডারির সৃষ্টি। শিবপুরের মানুষ পলাশ ছোটবেলা থেকেই গ্রামীণ হাওড়া ও শহরের নানা প্রান্তে ঘুরেছেন। নিজের চোখে দেখেছেন হাওড়ার অতীত থেকে বর্তমান আধুনিকতার বিবর্তন। তাই এলাকার মানুষ হিসেবে নিজের জেলার ঐতিহ্যকে তিনি স্কুলের দেওয়ালে এক অন্যরূপে তুলে ধরেছেন।