


নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: সবুজ রঙের চাদরে মুড়ে রাখা হয়েছে দুধের শিশুকে। এক ঝলক দেখলেই বোঝা যায়, বড়জোর তিন-চার মাস বয়স হবে। হাওড়া স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে এক তরুণীর কোলে সবুজ চাদরে মোড়া শিশুকে দেখে সন্দেহ হয়েছিল আরপিএফের। কারণ, এই ধরনের চাদর সাধারণত হাসপাতালে দেখা যায়। তাহলে কি বাচ্চাটি হাসপাতাল থেকে চুরি করা হয়েছে? এই সন্দেহ থেকেই হাওড়া স্টেশনের এক নম্বর প্ল্যাটফর্মে আরপিএফ আটক করে জুবেইদা নামে এক মহিলাকে। তাকে জেরা করতেই সামনে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। জানা যায়, নিজের ভাইয়ের তিন মাসের কন্যাসন্তানকে চুরি করে সে নিঃসন্তান এক দম্পতিকে বিক্রি করতে যাচ্ছিল। পুলিশ বা কারও যাতে সন্দেহ না হয়, তার জন্য শিশুটির বার্থ সার্টিফিকেটে মা হিসেবে তার নামই লেখাছিল। এসব তথ্য জানতে পারার পর ওই মহিলাকে হাওড়া জিআরপির হাতে তুলে দেয় আরপিএফ। শিশুকন্যাকে পাঠানো হয়েছে হোমে।
হাওড়া স্টেশন দিয়ে নারী ও শিশু পাচার রোধে বিশেষ টিম তৈরি করেছে আরপিএফ। কয়েকদিন আগে রুটিন তল্লাশি চালানোর সময় এই ইউনিটের অফিসার স্বপন মণ্ডলের নজরে পড়ে, এক মহিলা এক নম্বর প্ল্যাটফর্ম দিয়ে শিশু কোলে হেঁটে আসছে। সবুজ রঙের চাদর দিয়ে মোড়ানো রয়েছে বাচ্চাটি। আরপিএফের তদন্তকারী অফিসাররা মহিলাকে জেরা করে জানতে পারেন, সে থাকে ভদ্রেশ্বরে। তবে তার আসল বাড়ি বিহারে। তার ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী, দু’জনেই দৃষ্টিহীন। এর আগে তাঁদের তিনটি সন্তান জন্মের পরই মারা যায়। এরপর জন্ম নেয় এক কন্যাসন্তান। তার কয়েকদিনের মধ্যে মারা যান তার ভাইও। তাঁর স্ত্রীও দৃষ্টিহীন হওয়ায় জুবেইদা সেই সুযোগে শিশুকন্যাকে চুরি করে নিয়ে ভদ্রেশ্বরে চলে আসে। সবুজ রঙের চাদরটি বিহারের একটি হাসপাতাল থেকে জোগাড় করেছিল সে। বিহারের পঞ্চায়েত দপ্তরে কর্মরত এক ব্যক্তিকে ‘ম্যানেজ’ করে সে বাচ্চাটির জন্মের সার্টিফিকেট তৈরি করায়। সেখাতে মা হিসেবে নিজের নাম উল্লেখ করে। ওই নথিও বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পুলিশ বা কেউ সন্দেহ প্রকাশ করলে যাতে সে নথি দেখাতে পারে, তার জন্যই বার্থ সার্টিফিকেটে নিজেকে মা হিসেবে উল্লেখ করেছিল সে। এই সার্টিফিকেট বানাতে জুবেইদা টাকাও খরচ করেছিল।
আরপিএফের তদন্তে আরও জানা যায়, সে বাচ্চাটি বিক্রির জন্য নিঃসন্তান এক দম্পতির সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। টাকাপয়সা চূড়ান্ত হওয়ার পর হাওড়ার কোনো এক এলাকায় দম্পতির হাতে শিশুকে তুলে দেওয়ার কথা ছিল। সেই জন্যই জুবেইদা ওই শিশুকন্যাকে নিয়ে নেমেছিল হাওড়া স্টেশনে। এসব জানার পরই মহিলাকে গ্রেপ্তার করে হাওড়া জিআরপির হাতে তুলে দেওয়া হয়। বার্থ সার্টিফিকেটটি যে পঞ্চায়েত অফিস থেকে ইস্যু করা হয়েছিল, তাদের কাছে এ সংক্রান্ত তথ্য চেয়ে পাঠানো হয়েছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, ওই মহিলা শিশু পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। এই কায়দায় সে ক’টি শিশু বিক্রি করেছে, জিজ্ঞাসাবাদ করে জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।