নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া ও সংবাদদাতা, উলুবেড়িয়া: রবিবার রাত থেকে টানা ভারী বৃষ্টির জেরে সালকিয়ার শ্রীরাম ঢ্যাং রোডে হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি পুরানো দোতলা বাড়ির একাংশ। ভাঙা বাড়ির ভিতরেই আটকে পড়েন বছর ষাটের এক বৃদ্ধ। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় জানালা দিয়ে মইয়ের সাহায্যে তাঁকে উদ্ধার করে দমকল ও বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী। অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচেন তিনি। এদিকে, সোমবার দিনভর বৃষ্টিতে জলমগ্ন হয়ে পড়ে গোটা হাওড়া। গঙ্গায় জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় লাগাতার পাম্প চালিয়েও শহরের বড়ো অংশকে জলমুক্ত করা সম্ভব হয়নি।
এদিন সকাল ৯টা নাগাদ আচমকা সালকিয়ার ওই দোতলা বাড়ির বারান্দা ও সিঁড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। বাড়িটিতে দু’টি পরিবারের ছ’জন থাকেন। আচমকা বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ায় বাকিরা কোনোরকমে হামাগুড়ি দিয়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারলেও দোতলার ঘর থেকে বৃদ্ধ রতন বন্দ্যোপাধ্যায় বেরতে পারেননি। ভিতরেই আটকে পড়েন তিনি। বিষয়টি নজরে আসার পর স্থানীয়রা খবর দেন বিধায়ক তথা পুর প্রতিমন্ত্রী উমেশ রাইকে। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের দু’টি ইঞ্জিন। আসে হাওড়া পুরসভার বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও মালিপাঁচঘড়া থানার পুলিশ। সিইএসসি’র আধিকারিকরাও ঘটনাস্থলে গিয়ে সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় মইয়ের সাহায্যে জানালা দিয়ে রতনবাবুকে নিরাপদে নীচে নামিয়ে আনেন দমকলকর্মীরা।
এদিকে, সকাল থেকে নাগাড়ে বৃষ্টি হওয়ায় শহরের বিস্তীর্ণ এলাকায় জল জমে যায়। নীচু রাস্তাগুলির কোথাও গোড়ালি, কোথাও হাঁটু, আবার কোথাও প্রায় কোমরসমান জল। উত্তর হাওড়ার জে এন মুখার্জি রোড, ঘুসুড়ির নস্করপাড়া রোড, সালকিয়া মহীনাথ পোড়েল লেন, টিএল জয়সওয়াল হাসপাতাল চত্বর, লিলুয়ার রেল কোয়ার্টার, ঝিল রোড, দাসপাড়া, বামুনগাছি ও বেলগাছিয়ায় থই থই জল ছিল এদিন। বেলুড় ও বালির একাধিক রাস্তার পাশাপাশি দুই স্টেশনের আন্ডারপাসেও জল জমে চরম ভোগান্তি হয়। মধ্য হাওড়ার টিকিয়াপাড়া, বেলিলিয়াস লেন, লক্ষ্মণ দাস লেন এবং শিবপুরের ভূতবাগান, পিয়ারাবাগান, কোনা বাগপাড়া সহ ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা কার্যত জলের তলায় চলে যায়। একদিকে জমা জল ও বেহাল রাস্তার জেরে গতি হারায় যানবাহন।
এদিন রামরাজাতলায় জল জমার সমস্যা আরও প্রকট হয়েছে। রবিবার রাম ঠাকুরের বিসর্জনের শোভাযাত্রা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন জলছত্র থেকে বিতরণ করা হাজার হাজার প্লাস্টিকের পাউচ নিকাশিনালায় ঢুকে জল নামার পথ আটকে দেয় বলে অভিযোগ। হাওড়া পুরসভার এক পদস্থ কর্তা বলেন, গঙ্গার জলস্তর বেড়ে যাওয়ায় শহরের বহু এলাকা থেকে জল নামতে সমস্যা হচ্ছে। ২০টির বেশি স্থায়ী পাম্পের পাশাপাশি ৩৬টি পোর্টেবল পাম্প চালানো হয়েছে। রানি ঝিল, পচা খাল সহ বড়ো জলাশয়গুলি জলে টইটুম্বর হয়ে পড়ায় জল বের করার উপায় ছিল না এদিন। গ্রামীণ হাওড়ায় টানা বৃষ্টিতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে বাসিন্দাদের। উলুবেড়িয়া পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের চেঙ্গাইলে জল জমে যায়। উলুবেড়িয়ার হাটগাছা ২ নম্বর পঞ্চায়েত এলাকায় গাছ ভেঙে পড়ে, পরে তা সরিয়ে দেওয়া হয়। বাগনানের এনডি ব্লক এলাকাতেও জল জমেছে। বেনাপুর চন্দনাপাড়া হাইস্কুল সংলগ্ন প্রাথমিক বিদ্যালয় চত্বরে একটি মৃত গাছ পড়ে গেলেও বড়ো বিপদ ঘটেনি।-নিজস্ব চিত্র