নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: পালাবদলের পর তোলাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন বিধাননগর পুরসভার প্রাক্তন মেয়র পারিষদ দেবরাজ চক্রবর্তী। একমাস কেটে গিয়েছে। এখনও জামিন পাননি। এর মধ্যেই তাঁর বিরুদ্ধে ব্যাকডেটেড বিল্ডিং প্ল্যান নিয়েও পৃথক এফআইআর দায়ের করেছিলেন রাজারহাট-গোপালপুরের বিধায়ক তরুণজ্যোতি তেওয়ারি। সেই এফআইআরে নাম রয়েছে রাজারহাট-নিউটাউনের প্রাক্তন বিধায়ক তাপস চট্টোপাধ্যায়েরও।
গত ৭ জুলাইয়ের ওই অভিযোগের পর তিন সপ্তাহ কেটে গিয়েছে। এখনও অবশ্য পুরো ঘটনা সামনে আসেনি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যাকডেটেড বিল্ডিং প্ল্যানে মোট কত কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে, তার তদন্ত চলছে। এখনও কিনারা হয়নি। বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। বিজেপির দাবি, এই তদন্ত শেষ হলে অনেক বড়ো দুর্নীতি সামনে আসবে। যেখানে দেবরাজ একা নন। অনেকে জড়িত। তোলাবাজির অভিযোগে গত ১ জুলাই পুরুলিয়া-ঝাড়খণ্ড সীমান্ত থেকে গ্রেপ্তার হয়েছেন মেয়র পারিষদ তথা রাজারহাট-গোপালপুরের প্রাক্তন বিধায়ক অদিতি মুন্সির স্বামী দেবরাজ। তাঁকে পাকড়াও করার আগে দেবরাজ ঘনিষ্ঠ চার প্রাক্তন কাউন্সিলারকে গ্রেপ্তার করেছিল বাগুইআটি থানা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দেবরাজের বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। একাধিক মামলায় প্রায় একমাস পুলিশ হেপাজতে থাকার পর তিনি এখন জেল হেপাজতে রয়েছেন। তদন্তের প্রয়োজনে তাঁকে ফের অন্য মামলায় পুলিশ হেপাজতে নেওয়া হতে পারে। দেবরাজ গ্রেপ্তার হওয়ার পর গত ৭ জুলাই এয়ারপোর্ট থানায় তাঁর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন বিধায়ক তরুণজ্যোতি। এফআইআর দায়ের করে মামলাও রুজু করে পুলিশ। দেবরাজ ও তাপস চট্টোপাধ্যায় মিলে ব্যাকডেটেড বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন দিয়েছেন বলে অভিযোগ তুলেছিলেন বিধায়ক তরুণজ্যোতিবাবু। বিধায়কের দাবি, পুরসভায় পৃথক দু’টি প্ল্যান চালু ছিল। একটি বিধাননগর পুরসভার ‘বিএমসি প্ল্যান’, অপরটি দেবরাজ চক্রবর্তীর ‘টিএমসি প্ল্যান’! তাতে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে। সূত্রের খবর, তদন্তে ইতিমধ্যেই বেশকিছু ব্যাকডেটেড বিল্ডিং প্ল্যানের উদাহরণ পাওয়া গিয়েছে। সেগুলি যাচাই করা হচ্ছে। পুরসভারও সহযোগিতা নেওয়া হবে। সমস্ত প্ল্যান সামনে এলে তারই সূত্র ধরে লেনদেনের তথ্যও সামনে আসবে।