Bartaman Logo
৭ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডবল ইঞ্জিনের শিথিল শর্তেই রাজ্যে অবশেষে চালু আবাস

পালাবদল হতেই রাজ্যে ফের চালু হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। এই প্রকল্প চালু করতে রাজ্যের তরফে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রককে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

ডবল ইঞ্জিনের শিথিল শর্তেই রাজ্যে অবশেষে চালু আবাস
  • ২২ মে, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

প্রীতেশ বসু, কলকাতা: পালাবদল হতেই রাজ্যে ফের চালু হতে চলেছে প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনা। এই প্রকল্প চালু করতে রাজ্যের তরফে ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রককে চিঠি পাঠানো হয়েছে। জানা গিয়েছে, এই প্রকল্পের শিথিল হওয়া শর্তগুলি মাথায় রেখেই নতুন উপভোক্তা খুঁজতে রাজ্যজুড়ে সমীক্ষা চালানো হবে। রাজ্যের পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষ একাধিকবার জানিয়েছেন, ১০০ দিনের পাশাপাশি শীঘ্রই আবাস প্রকল্পের সুবিধাও পাবেন রাজ্যের প্রান্তিক মানুষ। ফলে কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন এখন শুধু সময়ের অপেক্ষা। তা পাওয়া মাত্রই চালু হবে সমীক্ষার কাজ।

Advertisement

২০২৪ সালে আবাস যোজনার অধীন নতুন করে ১০ লক্ষ কোটি টাকা বরাদ্দ করে কেন্দ্র। সেইসঙ্গে শিথিল করা হয় উপভোক্তা বাছাইয়ের শর্তও। আগে একটি পরিবারের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকার বেশি হলেই তাঁদের আর এই প্রকল্পের অধীন অনুদান পাওয়ার যোগ্য বলে ধরা হত না। নিয়ম শিথিল করে তা ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। একইভাবে দু’-চাকা গাড়ি, ফ্রিজ, ল্যান্ডলাইন ফোন, মোটরচালিত নৌকা থাকলেও মিলত না বাড়ি তৈরির ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার অনুদান। এবার এই নিয়মও তুলে দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য রাজ্যে এই সমস্ত শর্ত রেখেই নয়া উপভোক্তা বাছাইয়ের কাজ হয়েছে। তবে বাংলায় এতদিন এই প্রকল্প বন্ধ থাকায় উপভোক্তা বাছাই করে নতুন প্রাপক তালিকা বা পার্মানেন্ট ওয়েটিং লিস্ট (পিডব্লুএল) তৈরির প্রয়োজন পড়েনি। প্রকল্প বন্ধ থাকায় আগের পিডব্লুএল-এর সব প্রান্তিক মানুষকে রাজ্যের কোষাগার থেকে বাড়ি তৈরির অনুদান দিয়ে দিয়েছে পূর্বতন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। ফলে রাজ্যের নতুন তালিকা খতিয়ে দেখে প্রথম ধাপে কতজনের বাড়ি তৈরির টাকার অনুমোদন দেওয়া হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে কেন্দ্র। ফলে পিডব্লুএল-এর প্রাপক সংখ্যার উপর নির্ভর করবে কেন্দ্র প্রথম ধাপে কত লক্ষ প্রান্তিক মানুষের বাড়ি তৈরির অনুমোদন দেবে। 
আবাসের সঙ্গে আসছে ১০০ দিনের কাজও। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাইকোর্ট পশ্চিমবঙ্গে অবিলম্বে এই প্রকল্পের কাজ শুরুর নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রকে। তারপরই ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর কেন্দ্র প্রায় চার ডজন শর্ত বেঁধে চিঠি দেয় রাজ্যকে। তা মানতে রাজি ছিল না পূর্বতন সরকার। ফলে এরাজ্যে চালু হয়নি মনরেগা প্রকল্প। এবার পালাবদলের পর সেই শর্ত মেনেই প্রকল্প চালুর প্রস্তুতি সেরে রাখার নির্দেশ পৌঁছেছে জেলায় জেলায়। অন্যতম শর্ত ছিল, একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে এককালীন ১০টির বেশি কাজ রূপায়ণ করা যাবে না। ফলে ১০টি করে কাজের তালিকা তৈরি রাখার তোড়জোড়ও পড়েছে। জানা গিয়েছে, জুনেই এরাজ্যে চালু হয়ে যাবে মনরেগা প্রকল্পের কাজ এবং ১ জুলাই থেকে তা অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে কেন্দ্রের প্রস্তাবিত ১২৫ দিনের ভিবি জি রাম জি প্রকল্পে।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ