


বিশেষ সংবাদদাতা, শ্রীনগর: তাপমাত্রা স্বাভাবিকের থেকে ৯ থেকে ১১ ডিগ্রি বেশি। প্রবল পশ্চিমী ঝঞ্ঝা নেই বললেই চলে। আকাশ পরিষ্কার। হাড় কাঁপানো ঠান্ডার কোনো বালাই নেই। ঠিক যেন বসন্ত। চলতি ফেব্রুয়ারি মাসে এমনই অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছেন ভূস্বর্গের মানুষ। গোটা কাশ্মীরজুড়ে একই অবস্থা।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে শ্রীনগরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ২১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। যা স্বাভাবিকের থেকে প্রায় ১০ ডিগ্রি বেশি। কাজিগুন্দের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ২১ থেকে সাড়ে ২১ ডিগ্রি। পিছিয়ে নেই গুলমার্গ ও পহেলগাঁও। সেখানে তাপমাত্রা যথাক্রমে ১১ ও ১৭ ডিগ্রি। এবিষয়ে কাশ্মীরের মেটেরিওলজিকাল ডিপার্টমেন্ট সেন্টারের ডিরেক্টর মুক্তার আহমেদ বলেন, ‘গত এক দশকে ফেব্রুয়ারি মাসে এটাই সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।’ এই অস্বাভাবিক আবহাওয়ার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন তিনি। মুক্তার বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন ও বিশ্ব উষ্ণায়নের জেরে এখানে শীত বেশিদিন থাকছে না। এখন ৪০ দিনের চিল্লাই কালান ছাড়া আর সেভাবে শীত পড়ে না।’ আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত জম্মু-কাশ্মীর, লাদাখ, হিমাচল প্রদেশ ও উত্তরাখণ্ডে তুষারপাতের ঘাটতি দেখা গিয়েছে। এদিকে, হিমবাহ গলে যাওয়ায় ফেব্রুয়ারি মাসেই নদীতে জল বাড়তে শুরু করেছে। এবিষয়ে ভূতত্ত্ববিদ রিয়াজ আহমেদ মীর বলেন, ‘তুষারপাত কম হওয়ায় হিমবাহ অনেক সহজেই গলে যায়।’ আবহাওয়ার এই খামখেয়ালিপনার প্রভাব পড়ছে কৃষিক্ষেত্রে। গরমের কারণে আমন্ড ও আপেল গাছে আগেই ফুল ধরে যাচ্ছে। চাষিদের আশঙ্কা, হঠাৎ তাপমাত্রা কমে গেলে সেগুলি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। চাষের পাশাপাশি ধাক্কা খেয়েছে গুলমার্গের পর্যটন শিল্প। সব মিলিয়ে ‘আগাম বসন্ত’ নিয়ে রীতিমতো চিন্তিত ভূস্বর্গের বাসিন্দারা।