১৯৫০ সালের বাজেট। পেশ করবেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী জন মাথাই। কিন্তু বাজেট পেশের আগেই হইচই। ফাঁস হয়ে গিয়েছে বাজেটের তথ্য। অভিযোগ ওঠে, কয়েকজনকে বিশেষ সুবিধা দিতেই একাধিক প্রস্তাবিত বাজেটের একাধিক পৃষ্ঠা ফাঁস করা হয়েছে। এই ঘটনার পর থেকেই পেশের আগে পর্যন্ত বাজেট পুস্তিকার সুরক্ষা নিয়ে চর্চা শুরু হয়। বদলে ফেলা হয় বাজেট পুস্তিকা ছাপানোর স্থান। কিন্তু চরম সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর হতে সময় লেগে গিয়েছে আরও ৩০ বছর। ১৯৮০ সালে গোপনীয়তা রক্ষার জন্য শুরু হয় লক-ইন পর্ব। আগে বাজেটের কপি ছাপা হতো রাষ্ট্রপতি ভবনের প্রেস থেকে। ১৯৮০ সালে সেই ঠিকানা বদলে গেল। নতুন ঠিকানা হল নর্থ ব্লকের বেসমেন্ট। বাজেট তৈরি হয়ে যাওয়ার পর এবং তা আনুষ্ঠানিক ভাবে পেশ হওয়ার আগের কয়েকটি দিন ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। ওই কয়েকটি দিন ‘লক-ইন’ নামে পরিচিত। নিয়ম অনুযায়ী, গোপনীয়তা বজায় রাখতে ওই সময়কালে বাজেট প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত সব আধিকারিককে থাকতে হয় ‘কোয়ারেন্টাইনে’। কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে বাজেট সংক্রান্ত সব তথ্য রাখা থাকে সচিবালয়ের নর্থ ব্লকের বেসমেন্টে। নিভৃতবাসে থাকা আধিকারিকদের উপরেও চলে কড়া নজরদারি। বাইরের তো বটেই পরিবারের কারও সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রাখার অনুমতি তাঁদের থাকে না। প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত এই পর্ব চলে। তাঁর নির্দেশ এলে তবেই বাজেট ছাপানোর কাজ সম্পন্ন হয়। কোয়ারেন্টাইন পর্বে যাওয়ার আগে সরকারি তরফে ওই আধিকারিকদের ধন্যবাদ জানানোর প্রক্রিয়াই ‘হালুয়া উৎসব’ নামে পরিচিত। সোজা কথায় মিষ্টিমুখ করেই আধিকারিকদের বন্দিদশায় পাঠানোর কাজই হালুয়া উৎসব। অর্থমন্ত্রী নিজে ওই হালুয়া রান্নায় অংশ নেন। চলতি বছরের ২৪ জানুয়ারি হালুয়া উৎসব হয়েছে। তবে এবার প্রথা মেনে উৎসবের ছবি প্রকাশ করেনি কেন্দ্র।



