Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / খেলা

নাটকীয় জয়ে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি

হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ। ড্যারেন স্যামির ভবিষ্যদ্বাণী মিলল ঠিকই। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ যেভাবে চেয়েছিলেন, ঠিক সেভাবে হল না

নাটকীয় জয়ে ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি
  • ২ মার্চ, ২০২৬ ১৫:০৩
Prefer us on Google

হিস্ট্রি রিপিটস ইটসেলফ। ড্যারেন স্যামির ভবিষ্যদ্বাণী মিলল ঠিকই। তবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ কোচ যেভাবে চেয়েছিলেন, ঠিক সেভাবে হল না। নইলে ক্যারিবিয়ান ড্রেসিং-রুমে শুধুই ফ্যালফেলে মুখের ভিড় কেন! 

Advertisement

এক দশক আগে ওয়াংখেড়েতে কুড়ি ওভারের কাপযুদ্ধের সেমি-ফাইনালে ভারতকে হারিয়েছিল স্যামি ব্রিগেড। চোখের জলে মাঠ ছেড়েছিলেন বিরাট কোহলিরা। বড় আসরে বাজিমাত করতে গেলে কখনও না কখনও টিম ইন্ডিয়াকে হারাতেই হবে— ক্যারিবিয়ান কোচের এহেন উপলব্ধির জন্ম সেখানেই। গঙ্গাপাড়ে ভারতের কাপস্বপ্নের সলিলসমাধি ঘটাতে মরিয়া দেখানো ক্যারিবিয়ানদের অনুপ্রেরণা হয়েও উঠেছিল তা। কিন্তু আরব সাগরের তীরের ফলাফল ফিরল না নন্দনকাননে। অথচ, সেবারের মত টস জিতে রান তাড়া করা দলই শেষ হাসি হাসল। পার্থক্য হল, সেবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের টার্গেট ছিল ১৯৩। আর রবিবার সূর্য ব্রিগেডের সামনে টাঙানো থাকল ১৯৬। ইতিহাসের এমন পুনরাবৃত্তি নিশ্চয়ই কল্পনাও করেননি স্যামিরা!
খেলা শুরুর আগে যদিও টগবগে দেখাচ্ছিল ক্যারিবিয়ানদের। রভম্যান পাওয়েলদের দেখা গেল একে অন্যের কাঁধে হাত রেখে গলার শির ফুলিয়ে ‘র‌্যালি রাউন্ড দ্য ওয়েস্ট ইন্ডিজ’ গাইছেন। ডাগ-আউটেও একই রকম তীব্র আবেগের ঝলক। এমনিতে প্রশান্ত মহাসাগরে ভাসমান বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলোর মধ্যে ক্রিকেটই অদৃশ্য যোগসূত্র। ফুটবলে বার্বাডোজ, জামাইকা আলাদা খেললেও ব্যাট-বলের দুনিয়ায় তারাই মেরুন রঙের জার্সিতে এক ড্রেসিং-রুমের বাসিন্দা। রণাঙ্গনে স্যামির সোলজার্সদের লাগছিল প্রচণ্ড এককাট্টা। কিছুদিন আগেই আড়াইশো পার করা ক্যারিবিয়ানরা যে স্ট্রোকের ফুলঝুরিতে মেতে উঠতে চাইবেন, তাতে আর আশ্চর্য কি? উইকেট পড়তে থাকলেও লড়াকু ক্যারিবিয়ানরা কঠিন চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিল। বোর্ডে প্রায় দুশো ওঠার পর শিরশিরানির চোরাস্রোত গ্রাস করেছিল গ্যালারিকে। ইডেনে আন্তর্জাতিক টি-২০ ক্রিকেটে ১৫৮ রানের বেশি তাড়া করা যায়নি কখনও। তাহলে কি বিদায় নিশ্চিত? পাওয়ার প্লে’র মধ্যেই অভিষেকের সঙ্গে ঈশান কিষান আউট, টেনশনে সরবিট্রেট জিভের তলায় দেওয়ার অবস্থা দর্শকদের। এই কঠিন সময়েই পরিত্রাতা হয়ে উঠলেন সঞ্জু স্যামসন। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল শিশিরও। জেসন হোল্ডারদের মুখের হাসি ক্রমশ উধাও। ক্যামেরায় ধরা পড়লেন স্যামি। মুখের জ্যামিতিতে উদ্বেগ, আশঙ্কা, হতাশার মিশেল। নাচগানের পার্টি বাতিল, সঙ্গী স্বপ্নভঙ্গের যন্ত্রণা। ক্যালিপ্সো নয়, রাতের ইডেন যে মজল ‘জয় হে’ সুরে!
দশ বছর আগে মহেন্দ্র সিং ধোনি ব্রিগেড যা পারেনি, সূর্যরা তাই করলেন। বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে দিলেন স্যামির ওয়েস্ট ইন্ডিজকে। বাণিজ্যনগরীর শাপমোচন আনন্দনগরীতে ঘটল বিরাট কোহলিদের!

সম্পর্কিত সংবাদ