১৮৪০ সালে ভারতে আসেন ছোট লাট স্যার উইলিয়াম গ্ৰে। কলকাতা বন্দরের কাজ সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য তিনিই প্রথম কমিশনার নিয়োগ করেন। তাঁরই উদ্যোগে ‘গেজেটিয়ার অব বেঙ্গল’ এবং পলতায় জল প্রকল্প চালু হয়। পাশপাশি, তাঁর বিরোধিতার জেরেই বন্ধ হয় শিক্ষা কর। শুধু তাই নয়, কলকাতা- হাওড়া রেলপথ স্থাপনেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল গ্রে সাহেবের। এই সমস্ত কারণে স্বাভাবিকভাবেই সেই সময় আমজনতার একটা বড় অংশ তাঁর গুণমুগ্ধ ছিল। ইতিহাস বলছে, ১৮৭১ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি কলকাতার টাউন হলে গ্রে সাহেবের বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সেখানে সাহেবের একটি তৈলচিত্রের উদ্বোধন হয়। সেই ছবি আজও টাউন হলে রক্ষিত আছে। পরবর্তীকালে গ্রে সাহেবের নামানুসারেই উত্তর কলকাতার একটি রাস্তার নাম হয় গ্ৰে স্ট্রিট। আবার মন্মথ ভট্টাচার্য স্ট্রিট উত্তর কলকাতার একটি অন্যতম ব্যস্ত রাস্তা। কে এই মন্মথ ভট্টাচার্য? জন্ম ১৮৮৬ সালে। বাবা মহামহোপাধ্যায় মহেশ ন্যায়রত্ন। স্বামী বিবেকানন্দের আন্তরিক বন্ধু মন্মথ সংস্কৃত কলেজ থেকে বিএ পাশ করেন। প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে তিনি এমএ পাশ করেন। পেয়েছিলেন ‘বিদ্যারত্ন’ উপাধিও। প্রথম বাঙালি হিসেবে ১৯০৮ সালে মন্মথ পাঞ্জাবের অ্যাকাউন্ট্যান্ট জেনারেল হন। ধর্মসভায় অংশ নেওয়ার জন্য আমেরিকায় থাকাকালীন স্বামী বিবেকানন্দ চিঠি লিখে আর্থিক অনটনের কথা জানালে মন্মথবাবু ক্ষেত্রী মহারাজের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্বামীজিকে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন।



