Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

কান্তেশ্বর গড় তৈরির ইতিহাস

কান্তেশ্বর গড় তৈরির ইতিহাস
  • ২৪ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের দিক থেকে কোচবিহার জেলার গুরুত্ব কম নয়। পঞ্চদশ শতকের ঐতিহাসিক নিদর্শন কান্তেশ্বর গড় আজও জেলার একাধিক প্রান্তে স্বমহিমায় দাঁড়িয়ে আছে। তবে রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ঐতিহাসিক এই নিদর্শন আজ অস্তিত্ব সঙ্কটে। কান্তেশ্বর গড় নিয়ে নানা লোককথা প্রচলিত রয়েছে। জানা যায়, গোসানিমারির রাজপাটকে ঘিরে তিনদিক থেকে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছিলেন খেন রাজারা। নীলধ্বজ খেন এই রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি নিজেই ‘কান্তেশ্বর’ উপাধি গ্রহণ করেন। তারপর থেকেই খেন রাজাদের ‘কান্তেশ্বর’ বলে সম্বোধন করা হতো। ঐতিহাসিকদের মতে, সেই কারণেই এই সীমানা প্রাচীর কান্তেশ্বর গড় নামে পরিচিতি পায়। আজকের রাজপাট ঢিবি কামতাপুর রাজ্যের মূল দুর্গ ছিল। প্রায় পাঁচ শতাব্দী আগে রাজা কান্তেশ্বর কামতাপুর শাসন করতেন। জনশ্রুতি অনুযায়ী, গোসানী দেবীর আদেশে স্বয়ং বিশ্বকর্মা এক রাতের মধ্যে কান্তেশ্বর রাজার জন্য সুউচ্চ প্রাচীরে ঘেরা নগরী নির্মাণ করে দিয়েছিলেন। সেই রাজ্যপাট না থাকলেও আজও দুর্গের ধ্বংসাবশেষ ও সীমানা প্রাচীর বর্তমান। শীতলকুচি, সিতাই ব্লকের পাশাপশি দিনহাটা মহকুমার বেশ কিছু এলাকায় গেলে আজও নজরে আসে এই গড়। রাজপাটের উত্তরে শীতলাবাস, দক্ষিণে শীলদুয়ার শোয়ারিগঞ্জ ও পশ্চিম দিকে বড় গদাইখোড়া পর্যন্ত দীর্ঘ কয়েক কিলোমিটার বিস্তৃত এই গড়। তবে সেই সময়ে সুউচ্চ গড় কীভাবে তৈরি হয়েছিল, তা আজও মানুষকে ভাবায়। পূর্বে গড়ের উচ্চতা ৪০ ফুটের বেশি ছিল। বর্তমানে এর উচ্চতা কোথাও কোথাও ৩০ ফুটের কাছাকাছি। কামতাপুর রাজ্যে প্রবেশ করার ছ’টি প্রবেশদ্বার ছিল। এগুলির নাম শিলদুয়ার, বাঘদুয়ার, সন্ন্যাসীদুয়ার, জয়দুয়ার, নিমাইদুয়ার ও হোকোদুয়ার। ইতিহাস ও ঐতিহ্যের কথা মাথায় রেখে শীতলকুচির লালবাজারে গড়ের উপর তৈরি হয়েছে কান্তেশ্বর গড় উদ্যান। গোসানিমারির রাজপাট, মাষানপাটের গড় দেখতে পর্যটকরা ভিড় করেন আজও। গড় ও রাজপাটের অজানা ইতিহাস পুনরুদ্ধার করতে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মত স্থানীয় বাসিন্দাদের।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ