


১৮৮৭ সাল। তৎকালীন কোচবিহার রাজ্যের ইতিহাসে এক স্মরণীয় বছর। আধুনিক কোচবিহারের রূপকার মহারাজা নৃপেন্দ্রনারায়ণ ভূপ বাহাদুর প্রতিষ্ঠা করলেন রাজপ্রাসাদ। যা আজকের কোচবিহারের প্রধান দর্শনীয় স্থান। ইতালির নবজাগরণের আগে ইউরোপীয় স্থাপত্যরীতি উৎকর্ষ লাভ করেছিল। স্থাপত্য নির্মাণের সেই ভাবধারাকে অনুসরণ করেই দেড় মিটার উঁচু ভিতের উপর বিরাট এই প্রাসাদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। প্রথমে এই প্রাসাদটি তিনতলা ছিল। কিন্তু ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে উপরের তলাটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। প্রাসাদের আয়তন ৪৭৬৮.৫ বর্গমিটার। উত্তর-দক্ষিণে ১২০ মিটার ও পূর্ব-পশ্চিমে ৭০ মিটার বিস্তৃত এই প্রাসাদের সামনের অংশে কোরিন্থীয় স্তম্ভের সমন্বয় দ্বারা অলঙ্কৃত রয়েছে। গাড়ি বারান্দাটিই প্রাসাদের প্রধান প্রবেশ পথ। সেই পথই সুপ্রশস্ত দরবার কক্ষ দিয়ে গিয়ে ভিতরে প্রবেশ করেছে। রোমের সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার অনুকরণে তৈরি হয়েছে দরবার কক্ষ। উপরের অংশে রয়েছে ধনুকাকৃতি চারটি খিলান। প্রাসাদের উপরের গম্বুজটি দ্বাদশ কোণবিশিষ্ট। দরবার কক্ষের মাঝে রয়েছে রাজ প্রতীক। আইকনিক এই প্রাসাদটিতে শয়নকক্ষ, সাজঘর, উপবেশন কক্ষ, বিলিয়ার্ড রুম, পাকশালা, ভোজন কক্ষ, নৃত্যশালা, পুস্তকাগার, তোষাখানা সহ প্রচুর ঘর রয়েছে। ভিতরে একটি ছোট্ট সুন্দর সুসজ্জিত উদ্যান রয়েছে এবং একটি পুকুর রয়েছে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার (এএসআই) অধীনে থাকা এই রাজপ্রাসাদটি কোচবিহার তথা উত্তরবঙ্গের পর্যটন স্থানগুলির মধ্যে অন্যতম।