শকুন্তলা ভগত। দেশের প্রথম মহিলা সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। নামটা খুব জনপ্রিয় নয়। তবে এই নামের সঙ্গেই জড়িয়ে দেশের বহু নির্মাণের ইতিহাস। আর শুধু ভারত নয়, ব্রিটেন,জার্মানি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও সমাদৃত তাঁর কাজ। ১৯৩৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি জন্ম শকুন্তলা যোশির। বাবাও পেশায় ইঞ্জিনিয়ার ছিলেন। শুরু থেকে অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন শকুন্তলা। ১৯৫৩ সালে প্রথম মহিলা হিসেবে মুম্বইয়ের বীরমাতা জিজাবাই টেকনোলজিক্যাল ইনস্টিটিউট থেকে সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ডিগ্রি পান। পরের দিকে পেনসিলভেনিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সিভিল অ্যান্ড স্ট্রাকচারাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে মাস্টার ডিগ্রি পাশ করেন। এরই মাঝে ইঞ্জিনিয়ার অনিরুদ্ধ শিবপ্রসাদ ভগতের সঙ্গে বিয়ে হয় তাঁর। ১৯৬০ সাল। বম্বে আইআইটিতে অধ্যাপনা শুরু করেন শকুন্তলা। ১৯৭০ সালের পর থেকে দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তাঁর নাম। একের পর এক ব্রিজ তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। স্বামীর সঙ্গেই নিজেদের একটি ফার্ম তৈরি করেন। নাম দেন ভগত ইঞ্জিনিয়ারিং। পরের দিকে কোয়াড্রিকন নামেও একটি ব্রিজ কনস্ট্রাকশন ফার্ম তৈরি করেন দম্পতি। তাঁদের তৈরি প্রি-ফেব্রিকেটেড মডিউলার ডিজাইনের হাত ধরে সেতু নির্মাণের ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্ত খুলে যায়। ধীরে ধীরে দেশের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে তাঁদের কাজ। এরপর লন্ডনে সিমেন্ট অ্যান্ড কংক্রিট অ্যাসোসিয়েশনের জন্য কাজ করেন শকুন্তলা। দেশে ফিরে ইন্ডিয়ান রোড কংগ্রেসের সদস্যও হন তিনি। আর এই কয়েক বছরের মধ্যে গোটা বিশ্বে ২০০টির বেশি এবং ভারতে ৬৯টি সেতু নির্মাণের নেপথ্যে ছিলেন শকুন্তলা ভগত। ১৯৯৩ সালে ওমেন ইঞ্জিনিয়ার অফ দ্য ইয়ারের সম্মানও পান তিনি। ইনভেনশন প্রমোশন বোর্ডের তরফেও তাঁকে বিশেষ সম্মান প্রদান করা হয়। ২০১২ সালের ১৪ অক্টোবর। দেশ হারায় তার প্রথম মহিলা সিভিল ইঞ্জিনিয়ারকে।



