Bartaman Logo
২৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / ব্ল্যাকবোর্ড

মধু কবির স্তোত্র পাঠ

মধু কবির স্তোত্র পাঠ
  • ৩১ মার্চ, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

 মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতা। বাংলা ও বাঙালির ইতিহাসের কতই না বিচিত্র ঘটনার সাক্ষী থেকেছে গঙ্গা নদী। ধর্ম, বাণিজ্য, সংস্কৃতি, রাজনীতির ধারা প্রবাহিত হয়েছে গঙ্গার ঘাটে-ঘাটে। এই নদীর তীরেই গড়ে উঠেছে কাশী, প্রয়াগ, নবদ্বীপ, দক্ষিণেশ্বর, বরানগরের মতো অসংখ্য জনপদ। তার সঙ্গে গড়ে উঠেছে স্নানের অসংখ্য ঘাট। এমন বহু ঘাট রয়েছে বরানগরেও। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল—কুটিঘাটে জেলেপাড়ার কাছেই ‘জয় মিত্র কালীবাড়ির ঘাট’। হরিহর শেঠের ‘প্রাচীন কলিকাতা পরিচয়’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, জয় মিত্রের পিতা রামচন্দ্র জাহাজের ক্যাপ্টেনদের কাছে মুৎসুদ্দির কাজ করে বহু অর্থ উপার্জন করেছিলেন। জয় মিত্র বিভিন্ন পূজা পার্বণে বহু অর্থ ব্যয় করতেন। এই গঙ্গার ঘাটটিও প্রতিষ্ঠা করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তাঁর নামেই ঘাটটি উৎসর্গ করা হয়। প্রয়াত ইতিহাসবিদ অজিত সেন ‘বরানগর আঞ্চলিক ইতিহাস’ গ্রন্থের তৃতীয় খন্ডে লিখেছেন, ‘১৮৬৭ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত বরানগরের সৌখিন নাট্য সম্প্রদায়ের অনুষ্ঠানে আসেন। অনুষ্ঠান শেষে তিনি জয় মিত্র কালীবাড়ি দর্শনে আসেন ও গঙ্গাস্নান অন্তে কালীবাড়ির ঘাটে বসে গঙ্গা স্তোত্র পাঠ করেন।’ ওই ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়—‘১৮৬৪ সালের ৫ অক্টোবর আশ্বিনের ঝড়ে ভেসে আসা জাহাজের ধাক্কায় জয় মিত্র কালীবাড়ির নহবতখানা দু’টি ভেঙে গিয়েছিল। জাহাজটিও ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। এই ঘাটটির নীচের দিকে জাহাজের ধাক্কায় কয়েকটি ধাপ ভেঙে গিয়েছিল।’ বহু ইতিহাসে সাক্ষী গঙ্গার এই ঘাট আজও স্বমহিমায় রয়ে গিয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে বহু মানুষ আসেন এই ঘাটটি দর্শন করতে। গঙ্গা স্নান সেরে অনেকেই জয় মিত্র কালীবাড়িতে মাকে দর্শন করে দক্ষিণেশ্বরের পথে পা বাড়ান। ওই ঘাট চত্বরে গঙ্গার হাওয়ায় যেন আজও ভেসে বেড়ায় অতীতের ইতিকথা।

Advertisement
Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ