উত্তর কলকাতার বাগবাজার। গঙ্গার তীরে সুতানুটি অঞ্চলের বাগবাজার হাটের ইতিহাস অনেক পুরনো। নবাবি আমলের শেষ লগ্ন ও ইংরেজ শাসন শুরুর সন্ধিক্ষণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে এই অঞ্চল। একদিন জোব চার্নকের নৌকা এখানকার ঘাটেই নোঙর ফেলেছিল। কালক্রমে সাহেব-মেমদের পছন্দের জায়গা হয়ে ওঠে বাগবাজার। পেরিন সাহেবের বাগান ছিল তাঁদের বেড়ানোর জায়গা। পাশাপাশি, বাঙালির ব্যবসা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারাবাহিকতায় অনন্য হয়ে ওঠে বাগবাজার। এখানে গোবিন্দরাম মিত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন নবরত্ন মন্দির। পরে ঝড় ও ভূমিকম্পের ধাক্কা সামলাতে পারেনি মনুমেন্টের চেয়েও উঁচু ওই মন্দির। ১৭৫৬ সালে বাংলার নবাব সিরাজ-উদ-দৌলা কলকাতা আক্রমণ করেন। সেই সময় নবাবের ফৌজকে আটকে দিয়েছিল বাগবাজার দুর্গের কয়েকজন গোরা সৈন্য। মীরজাফর পালিয়ে যান দমদমায়। সেসব অনেক ঘটনার স্মৃতি বুকে আঁকড়ে বইছে গঙ্গার জল। রামকৃষ্ণ, সারদা দেবী, স্বামী বিবেকানন্দ, ভগিনী নিবেদিতা, গিরিশচন্দ্র ঘোষ প্রমুখের স্মৃতি জড়িয়ে রয়েছে বাগবাজারের সঙ্গে। হিন্দু-মুসলিম ঐক্যের জন্য স্বাধীন ভারতে প্রথম শহিদ হয়েছিলেন বাগবাজারের শচীন মিত্র। ‘বাংলার মাটি, বাংলার জল’ গেয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বাগবাজারে রাখিবন্ধন করেছিলেন। ভুবনমোহন নিয়োগী, নরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়, অর্ধেন্দুশেখর মুস্তাফি, ধর্মদাস সুর, কিরণচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়, বেলুবাবু, অমৃত লাল বসু সহ নাটক-পাগল তরুণদের দল ১৮৭২ সালের ৭ ডিসেম্বর গড়ে তুলেছিলেন জাতীয় নাট্যশালা। ভগিনী নিবেদিতার প্রতিষ্ঠিত বালিকা বিদ্যালয় তো ইতিহাসের এক স্মরণীয় অধ্যায়। স্বামী পূর্ণাত্মানন্দ মহারাজ সম্পাদিত ‘ধন্য বাগবাজার’ গ্রন্থে রয়েছে এখানকার নানা কথা ও কাহিনি।



