দার্জিলিংয়ের অন্যতম প্রাচীন একটি তীর্থক্ষেত্র মহাকাল মন্দির। জানা যায়, ভুটিয়াদের এই অঞ্চলে আসার বহু আগে থেকেই এখানে ছিল বৌদ্ধদের মঠ। পর্বতসঙ্কুল গভীর অরণ্যে দোর্জে লামার উদ্যোগে মন্দির প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। তার আগে গুহার কাছে একটি গাছের তলায় পূজিত হতেন বৌদ্ধদের দেবতা মহাকাল। মন্দিরের প্রাচীনত্ব নিয়ে তেমন কোনও পাথুরে প্রমাণ নেই। তবে বিভিন্ন ইতিহাস গ্রন্থ থেকে জানা যায়, ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দে নেপালের শাহ বংশীয় হিন্দু রাজারা সিকিমের অন্তর্গত এই স্থানটি আক্রমণ করে বৌদ্ধ মঠটি ধ্বংস করে দেন। তারও অনেক পরে, ১৮৭৮ খ্রিস্টাব্দে বৌদ্ধ ভুটিয়ারা দার্জিলিংয়ের লেবং রোডে ভুটিয়া বস্তিতে নতুন করে একটি বৌদ্ধ মঠ স্থাপন করেন।
জানা যায়, অনেক আগে এখানে একটি কালো পাথর ও ত্রিশূল ছিল। কথিত আছে, এখানে শিবের বিয়ে হয়েছিল। তখনই নাকি তিনি ত্রিশূলটি রেখে গিয়েছিলেন। বৌদ্ধ বজ্রযানী সাধকেরা এই মহাকালের উপাসনা করেন। আর হিন্দু তন্ত্র মতে দেবী মহাকালীর ভৈরব এখানে অধিষ্ঠিত। আজও মহাকাল মন্দিরে প্রাচীন সেই কালো পাথর ও ত্রিশূলের নিত্য পুজো হয়। স্বামী অচ্যুতানন্দের লেখা ‘দার্জিলিং-এ নিবেদিতা ও রামকৃষ্ণ মিশন’ গ্রন্থ থেকে জানা যায়, মহাকাল মন্দিরে পুরোহিত হিসেবে দু’পাশে দু’জন বসে থাকেন। একদিকে হিন্দু পুরোহিত, অন্যদিকে বৌদ্ধ লামা। দু’জনেই তাঁদের মতো করে পুজো করেন। এক অভূতপূর্ব সহাবস্থান। মহাকাল মন্দিরের অনতিদূরে অন্য একটি মন্দিরের পাথরের গায়ে খোদাই রয়েছে দেবী কালীর মূর্তি। বর্তমানে এই তীর্থক্ষেত্র দেশ-বিদেশের পর্যটকদের ভিড়ে সবসময় জমজমাট থাকে। ইংরেজরা স্থানটির নাম দিয়েছিল ‘অবজারভেটরি হিল’। মহাকাল মন্দিরে নবরাত্রিতে নেপালি ও অন্য পাহাড়ি বাসিন্দাদের নানা রকমের পূজা-অর্চনা ও আঞ্চলিক নৃত্য অনুষ্ঠিত হয়।