


সিমলা: ৩০ জুন রাতে মেঘভাঙা বৃষ্টি আর হড়পা বান। মুহূর্তেই জল ঢুকে পড়ে হিমাচল প্রদেশের মাণ্ডি জেলার শরণ গ্রামে। জলের তোড়ে ভেসে যায় একের পর এক বাড়ি। ভূমিধস থেকে বাঁচতে আর্তনাদ করে এদিক-ওদিক ছুটতে শুরু করেন গ্রামবাসীরা। নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন বছর কুড়ির তুনেজা ঠাকুরও। আচমকা ধস নামে। আর মাটির নীচে চাপা পড়ে যান তরুণী। কথায় আছে—রাখে হরি মারে কে। তাই বোধহয় চাপা পড়ার পাঁচঘণ্টা পরও মৃত্যুর ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিরে এসেছেন তিনি। যা দেখে রীতিমতো হতবাক পরিবারের সদস্যরাও।
তুনেজা নিখোঁজ হওয়ার পর পরিবারের সদস্যরা আশপাশে খুঁজতে শুরু করেন। কিন্তু ঘণ্টা পাঁচেক পরেও কোনও সন্ধান মেলেনি। হঠাৎই ধ্বংসস্তূপের নীচে প্রাণের সন্ধান পান উদ্ধারকারীরা। কাদামাটি সরিয়ে জীবন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় তাঁকে। তুনেজার কথায়, ‘প্রতি মুহূর্তে মনে হচ্ছিল এই বুঝি দম বন্ধ হয়ে যাবে। কাদা, পাথরের স্তূপের নীচে সব অন্ধকার হয়ে আসছিল। কিন্তু একটা কথা জানতাম, যেভাবেই হোক বেঁচে ফিরতে হবে আমাকে। দু’হাত দিয়ে কোনওরকমে কাদামাটি সরাতে থাকি। যাতে শ্বাসটুকু নিতে পারি। এভাবেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা লড়ে যাই।’ তুনেজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন হিমাচল প্রদেশের উপ মুখ্যমন্ত্রী মুকেশ অগ্নিহোত্রী ও বিরোধী দলনেতা জয়রাম ঠাকুর। তুনেজার এই লড়াইকে কুর্নিশ জানিয়েছেন তাঁরা।