নিজস্ব প্রতিনিধি, রানাঘাট: বর্ষার ইলশেগুঁড়ি বৃষ্টি। পাতে ইলিশের গরম গরম রকমারি পদ। আকাশছোঁয়া দাম হলেও ইলিশ না হলে বাঙালির রসনাতৃপ্তি অসমাপ্ত! কিন্তু, শান্তিপুরে সে আর হল কই! রাতারাতি বাজার থেকে লুঠ লক্ষ লক্ষ টাকার ইলিশ। সকালে বাজারের ঝাঁপি খুলতেই ভিড়মি খেলেন ক্রেতারা। কেউ আবার মাথা চাপড়ে বসেই পড়লেন মাছের দোকানে। চারদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থর্মকলের বাক্স। তাতে রুই-বাটা-কাতলা। ইলিশের দেখা নেই!
শান্তিপুরের নতুনহাট পৌর বাজার। সেখান থেকে লুট হয়ে গিয়েছে লক্ষ লক্ষ টাকা ইলিশ। রবিবার সকালে বিষয়টি নজরে আসে ব্যবসায়ীদের। আর্থিক ক্ষতির ধাক্কা সামলে সোমবার তাঁরা দারস্থ হন শান্তিপুর পুরসভা এবং থানায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবারের বাজারে ইলিশের চাহিদা তুঙ্গে থাকে। তাই শনিবার নতুন ইলিশ ঢুকেছিল বাজারে। রাতে ব্যবসায়ীরা নিজ নিজ স্টলে রাখা থার্মোকলের পেটিতে স্টোর করে রেখে গিয়েছিলেন সেই ইলিশ। প্রায় জনা সাতেক ব্যবসায়ী মিলে ইলিশ তুলেছিলেন। যার বাজারমূল্য কম বেশি প্রায় ৫ লক্ষ টাকা। কিন্তু রবিবার সকালে বাজারে এসে তাঁরা দেখতে পান, লন্ডভন্ড হয়ে রয়েছে চারিদিক। প্রায় সব ইলিশের পেটি খালি। কয়েকজনের ইলিশ ভর্তি পেটির হদিশ পর্যন্ত মেলেনি। এছাড়াও রুই কাতলা সহ অন্যান্য মাছের স্টকও সাবাড় হয়ে গিয়েছে রাতারাতি।
ব্যবসায়ী বিকাশ বর্মন এদিন বলছিলেন, ‘আমি বিভিন্ন সাইজের ১৮ কিলো ইলিশ তুলেছিলাম। দাম মোটামুটি ৯০০ টাকা থেকে বারোশো টাকা পর্যন্ত। সকাল বেলা বাজারে এসে দেখি, আমার ইলিশের পেটিটাই নেই। প্রায় ৩৭ হাজার টাকার মাছ লুঠ হয়ে গিয়েছে।’ ব্যবসায়ী দেবেন্দ্র বিশ্বাসের কথায়, ‘আমি বাজারে একটু ধার করেই বেশি মাছ তুলেছিলাম। এক থেকে দেড় কিলো সাইজের ইলিশ ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ষাট হাজার টাকা দাম হবে। সকালবেলা এসে দেখি, সব মাছ কেউ বা কারা নিয়ে চলে গিয়েছে।’
ব্যবসায়ীদের দাবি, তাঁদের আলাদা কোনও স্টোর নেই। যে যার মতো থার্মোকলের পেটিতে মাছ স্টোর করে রেখে যেতেন। মাঝেমধ্যেই অল্পবিস্তর চুরি হতো। তবে এত বড় মাপের চুরি এই প্রথম। বিশেষ করে যেদিন বাজারে ইলিশ ঢুকেছে, সেইরাতেই লুঠ হয়ে গিয়েছে রূপোলি শস্য। অন্যদিকে, শান্তিপুর পুরসভার সূত্রের খবর, ওই বাজারে পাহারায় রাতে দু’জন করে নাইট গার্ড থাকে। তা সত্ত্বেও কেন এমন ঘটনা ঘটল? কর্তৃপক্ষের দাবি, ঘটনার দিন রাতে তাঁরা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন না করার জন্যই এই লুঠ হয়েছে। এদিন ব্যবসায়ীরা পুলিস ও পুরসভার দ্বারস্থ হন। লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন দু›জায়গাতেই। বিষয়টি নিয়ে শান্তিপুর পুরসভার চেয়ারম্যান সুব্রত ঘোষ বলেন, ‘নাইট গার্ড যাঁরা ছিলেন তারা যে সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করেননি, এবিষয়ে স্পষ্ট। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। সিসিটিভির ফুটেজ দেখে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে, কারা এই লুঠপাট চালিয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনা না ঘটে, তার জন্য আমরা বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছি।’