নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: ইঞ্জিনিয়ারিং জয়েন্ট এবং শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (টেট)-এর মডেল এবার উচ্চ মাধ্যমিকে! প্রকাশ করা হবে ‘ওএমআর শিট’। সঙ্গে আদর্শ উত্তরপঞ্জী বা ‘মডেল আনসার কি’। ফলপ্রকাশের অনেক আগেই তা আপলোড করে দেওয়া হবে ওয়েবসাইটে। সেটির সঙ্গে নিজের ওএমআর শিট মিলিয়ে নিজের প্রাপ্ত নম্বরের হিসেব কষতে পারবে ছাত্রছাত্রীরা। রেজাল্টের অপেক্ষা করতে হবে না। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর থেকে উচ্চ মাধ্যমিকের প্রথম (একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি মিলিয়ে হিসেব করলে অবশ্য তৃতীয়) সেমেস্টারের পরীক্ষা হতে চলেছে। প্রথমবারের মতো এই পরীক্ষা হবে ওএমআর শিটে। সেখানেই কার্যকর হবে এই নতুন নিয়ম।
জয়েন্ট এবং টেট-এর ক্ষেত্রে এমন ব্যবস্থা বেশ পুরনো। এমনকী কোনও মডেল উত্তর ভুল মনে হলে তা জানাতে পারেন পরীক্ষার্থীরা। অভিযোগে সত্যতা থাকলে, প্রার্থীদের প্রাপ্য নম্বর দিতেও সুপারিশ করে পরীক্ষা নিয়ামক সংস্থাগুলির তৈরি বিশেষজ্ঞ কমিটি। উচ্চ মাধ্যমিকে অবশ্য সেই ব্যবস্থা থাকবে কি না, তা এখনই জানা যাচ্ছে না। উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ সূত্রে খবর, কার্বন কপি এবং ওএমআরের স্ক্যান করা কপি, কোনটি দেওয়া হবে, তা নিয়ে আলোচনা চলেছিল। শেষপর্যন্ত স্ক্যান করা কপি আপলোডের সিদ্ধান্তেই চূড়ান্ত সিলমোহর পড়ে।
বুধবারই ওএমআর শিটের নমুনা কপি ওয়েবসাইটে আপলোড করেছে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ। তাতে পরীক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলা হয়েছে, ওএমআরের উত্তর কালো বা নীল কালির বলপয়েন্ট পেন দিয়েই করতে হবে। আর সঠিক উত্তরের বিকল্পটি (এ, বি, সি এবং ডি) যে বৃত্তে রয়েছে, সেটিকে পেন দিয়ে গাঢ় করে ঘষে দিতে হবে। তবে কালি যেন বৃত্তের বাইরে না যায়। আবার বৃত্তের মধ্যে সাদা জায়গা থাকলেও চলবে না। সেটা মাথায় রাখতে হবে। কোনওভাবেই টিক মার্ক বা ক্রস মার্ক দিয়ে উত্তর করা যাবে না। তাহলে উত্তরগুলি গ্রাহ্য হবে না। যদি কোনও খসড়া করতে হয়, তার জন্য প্রশ্নপত্রেই জায়গা দেওয়া থাকবে। ওএমআর শিটে কোনও দাগ কাটা যাবে না। এমনকী, সেটি ভাঁজ করলে পর্যন্ত পরীক্ষা বাতিল হয়ে যেতে পারে।
সংসদের এক আধিকারিক বলেন, ওএমআর শিট মূল্যায়ন হয় কম্পিউটার চালিত স্ক্যানিং পদ্ধতিতে। তাই সঠিক পদ্ধতি মেনে উত্তর না লিখলে, ওএমআরে ভাঁজ বা দাগ থাকলে বা সেটি কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে কম্পিউটার সেটির মূল্যায়ন করতে পারবে না। সে কারণেই বাড়তি সতর্ক থাকতে হচ্ছে। বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ওএমআর শিট বিশেষ পলিথিন প্যাকেটে আদানপ্রদান করা হচ্ছে। মঙ্গলবারই সংসদের সভাপতি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করে চতুর্থ তথা ফাইনাল সেমেস্টারে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার খসড়া রূপরেখা জমা দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকারি বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি। সমিতির সাধারণ সম্পাদক সৌগত বসুর আশা, এই প্রস্তাবটি মেনে দীর্ঘদিনের দাবি অনুযায়ী উচ্চ মাধ্যমিক ফাইনাল সেমেস্টারে সাপ্লিমেন্টারি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে পারবে সংসদ।