Bartaman Logo
৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

সরকার গঠনের ৪ মাস পর এনবিইউ’র স্ট্যাটাস রিপোর্ট চাইল উচ্চশিক্ষা দপ্তর

রাজ্যে নতুন সরকার আসার চার মাস পর উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাতটি বিষয় সর্ম্পকে পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট চাইল উচ্চশিক্ষা দপ্তর

সরকার গঠনের ৪ মাস পর এনবিইউ’র স্ট্যাটাস রিপোর্ট চাইল উচ্চশিক্ষা দপ্তর
  • ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুকান্ত গঙ্গোপাধ্যায়, শিলিগুড়ি: রাজ্যে নতুন সরকার আসার চার মাস পর উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় সাতটি বিষয় সর্ম্পকে পুঙ্খানুপুঙ্খ রিপোর্ট চাইল উচ্চশিক্ষা দপ্তর। চিঠি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে সেই সমস্ত বিষয় সর্ম্পকে উচ্চশিক্ষা দপ্তরকে জানিয়ে দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সোমবার সেই চিঠি পাঠানো হয়েছে। 

Advertisement

চিঠিতে মুখ্য বিষয় হিসাবে উঠে এসেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৩০ মাস ধরে উপাচার্য নেই। আর এর ফলেই জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। নিয়োগ, শেষ সমাবর্তন কবে হয়েছিল, পরবর্তী সমাবর্তন কবে হতে পারে ইত্যাদি জানতে চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীদের পদন্নোতি প্রসঙ্গও জানতে চাওয়া হয়েছে। এগজিকিউটিভ বডি, শিক্ষকর্মীর ঘাটতি পূরণ করার চেষ্টা করা হয়েছে কি না প্রভৃতি বিষয় সর্ম্পকে জানতে চাওয়া হয়। 
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এসব প্রসঙ্গকে সামনে রেখে উত্তর দিয়েছে। পাশাপাশি, এটাও চিঠির উত্তরে পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে উপাচার্য না থাকার কারণে সিংহভাগ কাজই সঠিকভাবে নির্দিষ্ট সময়ে করা যাচ্ছে না। সূত্রের খবর, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি কোচবিহারের পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয় সহ আরও কয়েকটি ইউনিভার্সিটির কাছে স্ট্যাটাস রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে। 
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের যুগ্ম রেজিস্ট্রার স্বপন রক্ষিত বলেন, আগের সরকারকে চিঠি দিয়ে অনেকবার জানিয়েছি। আচার্যকেও জানানো হয়েছে। উচ্চশিক্ষা দপ্তর প্রথম বিশ্ববিদ্যালয়ের স্ট্যাটাস রিপোর্ট জানতে চেয়েছিল। আমরা সোমবার সেই চিঠির উত্তর পাঠিয়ে দিয়েছি। ছয়-সাতটি পয়েন্টের পাশাপাশি অন্যান্য পয়েন্ট হিসাবে উপাচার্য না থাকার কারণে যে সমস্যা হচ্ছে তাও উল্লেখ করা হয়েছে। 
এদিকে, পঞ্চানন বর্মা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মাধবচন্দ্র অধিকারী বলেন, উচ্চশিক্ষা দপ্তর বেশকিছু বিষয় সর্ম্পকে জানতে চেয়ে চিঠি দিয়েছে। আমরা সেই চিঠির উত্তর প্রস্তুত করছি। দ্রুত তা পাঠানো হবে। 
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর শেষবার সমাবর্তন হয়েছিল। আট বছর ধরে সমাবর্তন হচ্ছে না। ফলে পিএইচডি প্রাপকরা সার্টিফিকেট পাচ্ছেন না। শিক্ষক, শিক্ষাকর্মীর অভাব দেখা দিয়েছে। প্রায় একশো শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে। আগের সরকারের সময়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ডজন খানেক চিঠি লিখেছিল উচ্চশিক্ষা দপ্তরকে। কিন্তু, স্থায়ী উপাচার্য নিয়োগের বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়নি। এমন অবস্থায় অর্থনৈতিক অবস্থা থেকে শুরু করে ছাত্রভর্তি সবদিক থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় চরম বিপাকে। এ বছর দু’বার ভর্তি প্রক্রিয়া চালিয়েও বিপুল সংখ্যক আসন ফাঁকাই পড়ে আছে। অর্থনৈতিক অবস্থা এতটাই তলানিতে যে, মাস খানেক পর বিশ্ববিদ্যালয় কীভাবে চলবে তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই আবহে উচ্চশিক্ষা দপ্তর স্ট্যাটাস রিপোর্ট পেয়ে কি পদক্ষেপ করে, সেদিকে তাকিয়ে কর্তৃপক্ষ।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ