সংবাদদাতা, রঘুনাথপুর: বালির মাত্রাতিরিক্ত দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রঘুনাথপুর শহর কংগ্রেসের তরফে মহকুমা শাসককে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। বর্তমানে রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকায় বালি অস্বাভাবিক ও অতিরিক্ত চড়া দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে সাধারণ মানুষ, গৃহ নির্মাণকারী পরিবার ও নির্মাণ কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা চরম আর্থিক সমস্যায় পড়েছেন। তাই অবিলম্বে বালির মূল্যবৃদ্ধি রোধের জন্য প্রশাসনকে সদর্থক ভূমিকা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
রঘুনাথপুর এলাকার বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, এলাকার নিতুড়িয়া ও সাঁতুড়ির পাশ দিয়ে গিয়েছে দামোদর নদ। তবে এখনও পর্যন্ত বালির কোনো বৈধ ঘাট চালু হয়নি। ফলে রঘুনাথপুর বিধানসভা এলাকায় বালির জন্য বাঁকুড়া জেলার উপরই নির্ভর করতে হচ্ছে। রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর বাঁকুড়ার বিজেপি বিধায়াকরা জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বসে ট্রাক্টর প্রতি ১,২০০ টাকা রয়্যালটি নির্ধারণ করেছিল। অর্থাৎ এক ট্রাক্টর বালি হয় চার টনে। সেক্ষেত্রে টন প্রতি ৩০০ টাকা দাম পড়ে। রঘুনাথপুর এলাকার ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এলাকায় কোনো বৈধ বালিঘাট না থাকায় বাঁকুড়া জেলার মেজিয়া থানা এলাকার বৈধ ঘাট থেকে বালি আনতে হয়। সেখানে আন্ডারলোড বালি দেওয়া হয়। একটি ডাম্পারে প্রায় ৩২ টন বালি ধরে। অথচ ঘাটে সেই এক ডাম্পার বালি নিতে গেলে ৪৫ হাজার টাকা নেওয়া হচ্ছে। তার উপরে পরিবহণ, ডাম্পার, খালাসির খরচ তো রয়েইছে। সে ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা ডাম্পারে বালি এনে কত টাকা লাভ করবেন? ফলে ব্যবসায়ীদের বাধ্য হয়ে সাত থেকে সাড়ে সাত হাজার টাকা ট্রলি বালি বিক্রি করতে হচ্ছে। রঘুনাথপুর এলাকার বিজেপি নেতা শান্তনু দাস সোশ্যাল মিডিয়ায় ক্ষোভ উগরে বলেন, বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন প্রতি টন বালির মূল্য তিনশো টাকা বেঁধে দিয়েছে। তারপরেও বালি ঘাটে একটি ষোলো চাকা ট্রিপারে ৩২/৩৩ টন (আন্ডারলোডের) জন্য রয়্যালটি বাবদ ৪৫ হাজার টাকা নিচ্ছে। অর্থাৎ টন পিছু প্রায় ১,১০০ টাকা বেশি। বিষয়টি নিয়ে নেতৃত্বকে দেখার জন্য অনুরোধ করেছি।
আবাসের কাজ করা জিহুলাল মুর্মু, সুনীল কিস্কুরা বলেন, টাকা দিয়েও বালি মিলছে না। আবার এক ট্রাক্টরে ৮৫ সিএফটি বালি মিলছে। তার জন্য ট্রাক্টর প্রতি প্রায় সাড়ে সাত হাজার টাকা দিতে হচ্ছে।
কংগ্রেস শহর সভাপতি তারকনাথ পরামানিক বলেন, বর্তমানে কিছু ব্যবসায়ী অভাবকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত চড়া দামে বালি বিক্রি করছেন। বালির অভাবে সাধারণ মানুষ নির্মাণ কাজ করতে পারছেন না। আবার নির্মাণ কাজে যুক্ত শ্রমিকরা সমস্যায় পড়েছেন। তাই বিষয়টি মহকুমা শাসককে জানানো হয়েছে। মহকুমা প্রশাসনের তরফে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।