নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভিতর ছাত্রীর রহস্যমৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। ময়নাতদন্তের পর প্রাথমিকভাবে নেশা বা মদ্যপানের তত্ত্ব সামনে এসেছে। যাকে কেন্দ্র করেই যাবতীয় বিতর্ক। অভিযোগ, যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসের ভিতর মদ, গাঁজা, চরসের আসর আম ব্যাপার। এর আগেও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ক্যাম্পাসে পড়ুয়া মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রায় ২০ বছর আগেই শিক্ষাঙ্গনগুলির ভিতর মদ, গাঁজা, চরস নিষিদ্ধ করতে নির্দেশ জারি করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। এরপর বহু বছর কেটে গেলেও সেই নির্দেশ কাগজে কলমে রয়ে গিয়েছে। ক্যাম্পাসের ভিতর নেশার দ্রব্য নিষিদ্ধ করতে কোনও পদক্ষেপ করেনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলি। যাদবপুরের সাম্প্রতিক ঘটনা তার জলন্ত উদাহরণ।
বাম আমলে ২০০৪ সালে রাজ্য তথা দেশের অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খড়্গপুর আইআইটিতে ইলেকট্রনিক বিভাগের তৃতীয় বর্ষের এক ছাত্রর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিল। পরবর্তীতে পুলিশি রিপোর্টে দেখা যায়, মৃত্যুর অন্যতম কারণ অতিরিক্ত মদ্যপান। এরপরই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলির অন্দরে মদ, গাঁজা, চরসের মত নেশার দ্রব্য নিষিদ্ধ করতে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন আইনজীবী তাপস ভঞ্জ। সেই মামলার সূত্রেই কলকাতা হাইকোর্টের তৎকালীসন প্রধান বিচারপতি আলতামাস কবীর ও বিচারপতি অসিত কুমার বিসির ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেশার দ্রব্য নিষিদ্ধ করতে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল। রাজ্যের সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষদের বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছিল হাইকোর্ট। পাশাপাশি যারা এই কাজে যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা করার নির্দেশও দিয়েছিল হাইকোর্ট।
এরপর বহু বছর পেরিয়ে গেলেও নির্দেশকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে নিয়মিত নেশার আসর বসার অভিযোগ আসছে। যাদবপুরের ঘটনা তার অন্যতম উদাহরণ। শুধু তাইই নয়, এর আগেই এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নেশাগ্রস্ত ছাত্রর মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আর অতিরিক্ত নেশা করার পর অসুস্থতার ঘটনা তো আকছাড় ঘটে। তাই স্বাভবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে এবিষয়ে কবে পদক্ষেপ করবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ?