যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে বিশৃঙ্খলার ঘটনায় শুনানি শেষ হাইকোর্টে, রায়দান স্থগিত
  • ২৩ ডিসেম্বর, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: যুবভারতীর ঘটনা নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে দায়ের হওয়া একাধিক জনস্বার্থ মামলার শুনানি শেষে রায়দান স্থগিত রাখল প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। সোমবার মামলার শুনানিতে অভিযুক্ত শতদ্রু দত্তর আইনজীবীর দাবি, আয়োজক হিসেবে লায়োনেল মেসিকে যুবভারতীতে নিয়ে আসার যে দায়িত্ব তাঁর মক্কেলের ছিল, তা তিনি পালন করেছেন। অতিরিক্ত লোক কীভাবে মাঠে প্রবেশ করেছিলেন, তার দায়িত্ব শতদ্রুর নয়। মাঠে কতজন ঢুকবে, তার দায়িত্ব ছিল পুলিশের। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, মেসির রক্ষীরা স্থির করবেন, কে তাঁকে স্পর্শ করবেন, কে নয়। তাছাড়া অনেক পুলিশ কর্মীকেও মেসির সঙ্গে ছবি তুলতে দেখা গিয়েছে। জলের বোতল নিয়ে মাঠে পুলিশই ঢুকতে দিয়েছে।

Advertisement

যদিও এদিন মেসির মূর্তি উন্মোচন নিয়ে প্রশ্ন তুলে হাইকোর্ট রাজ্যের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, মেসির মূর্তি কি ব্যক্তিগত সম্পত্তি? রাজ্যের আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এ প্রসঙ্গে পরবর্তীকালে বক্তব্য জানাবে রাজ্য। পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আরও জানতে চান, ‘বাইরে যা হয়েছে, সে বিষয়ে রাজ্যের কী মত?’ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘মুখ্যমন্ত্রী ক্ষমা চেয়েছেন, এর থেকে বড়ো আর কী হতে পারে? আমরা টাকা ফেরানোর কেউ নই।’ রাজ্য বলেছে, ২২ কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে শতদ্রুর পাঁচটি অ্যাকাউন্ট থেকে। কল্যাণের সওয়াল, যুবভারতীর মাঠে ক্রীড়ামন্ত্রী ছাড়া কোনও রাজনীতিককে দেখা যায়নি।
মামলায় অন্য আইনজীবী সব্যসাচী চট্টোপাধ্যায় দাবি করেন, যুবভারতী কাণ্ডের অডিট করানো হোক ক্যাগকে (কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল) দিয়ে। সবের নেপথ্যে রয়েছে রাজ্য সরকার। নিরপেক্ষ তদন্ত হোক। ইডিকে দিয়ে তদন্ত করা হোক। সিবিআই তদন্তেরও দাবি করা হয়েছে। পাশাপাশি আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের সওয়াল, সাধারণ মানুষের টাকা নয়ছয় করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের তৈরি কমিটি ডিজিকে শো-কজ় করেছে, যা লোক দেখানো। পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিতভাবে এফআইআর করে দর্শকদের উপর দায় ঠেলেছে। গোটা বিশ্বের সংবাদমাধ্যমে দেখানো হয়েছে। রাজ্যের সিনিয়র অফিসারদের নিয়ে সিট তৈরি হয়েছে। তাঁরা কি নিরপেক্ষ তদন্ত করতে পারবেন, যেখানে মন্ত্রীরা যুক্ত? সবপক্ষের সওয়াল জবাব শোনার পর রায়দান স্থগিত রেখেছে প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। অন্যদিকে, ভাঙচুরের ঘটনায় ধৃত সাতজনেরই জামিনের আবেদন সোমবার মঞ্জুর করেছে বিধাননগর মহকুমা আদালত।