


নিজস্ব প্রতিনিধি, চুঁচুড়া: পার্ক স্ট্রিটের আদলে আনন্দ ময়দান গড়ে তোলার হেরিটেজ ও পর্যটন উৎসবের উদ্বোধন হল শ্রীরামপুরে। গতবছর থেকে শ্রীরামপুর পুরসভার উদ্যোগে এই উৎসব শুরু হয়েছে। মূলত গঙ্গার পাড়ের নাগরিকদের কাছে কলকাতার পার্ক স্ট্রিটকে পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি শহরের ঐতিহ্যকে শো-কেস করতে এই উৎসব শুরু করা হয়েছিল। সোমবার শ্রীরামপুরের উৎসব মঞ্চ থেকে সে বার্তাই দেওয়া হয়েছে। সঙ্গে ঐক্য-সম্প্রীতি ও বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখার বার্তাও দিয়েছেন উদ্বোধকরা। শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী ইন্দ্রনীল সেনকে নিয়ে উৎসবের উদ্বোধন করেন। উপস্থিত ছিলেন শ্রীরামপুর মহকুমার একাধিক পুরসভার চেয়ারম্যান, উৎসবের মুখ্য উদ্যোক্তা তথা শ্রীরামপুর পুরসভার সিআইসি সদস্য সন্তোষ সিং(পাপ্পু) সহ বিশিষ্টরা।
এদিন সন্ধ্যার পর শ্রীরামপুর শহর নতুন সাজে সেজে উঠেছিল। শহরের বিখ্যাত সেন্ট ওলাভ চার্চ, একাধিক ঐতিহাসিক স্থাপত্যকে আলোর মনোরম সজ্জায় সাজিয়ে তোলা হয়। আর সন্ধ্যার পর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান সহ নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদ্বোধন হয় দ্বিতীয়বারের হেরিটেজ ও পর্যটন উৎসবের। উদ্বোধক কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘বাংলা চিরকালই দেশের পথপ্রদর্শক আর বাংলাকে পথ দেখিয়েছে শ্রীরামপুর। নব জাগরণের সেই শহরকে নতুন করে বাংলা তথা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতেই নতুন ধারার উৎসব চালু করা হয়েছে। এই উৎসব শ্রীরামপুরের আধুনিক নবজাগরণের।’ শ্রীরামপুর পুরসভার চেয়ারম্যান গিরিধারী সাহা, আয়োজক সন্তোষ সিং বলেন, ‘পুরনো সংস্কৃতি ফিরিয়ে আনতে নানা আয়োজন উৎসব ঘিরে রাখা হয়েছে। সুফি থেকে সাফারি, রবীন্দ্রসঙ্গীত থেকে কাওয়ালি, আমরা সবেরই সমাবেশ করেছি।
শহরের ঐতিহ্য শো-কেস করতে বিশেষ টোটো সাফারি রাখা হয়েছে। জলপথে মানুষ যাতে উৎসব উপভোগ করতে পারে তার জন্য পরিবহণ দপ্তর বিশেষ ভেসেল দিয়েছে।’ একদিকে বড়দিন অন্যদিকে বর্ষবরণ। সঙ্গে থাকছে শ্রীরামপুরের আবেগ। সোমবার তারই সম্মিলনে শুরু হয়ে গেল শ্রীরামপুর উৎসব। যা ইতিমধ্যেই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের বিপুল জনসমাগম সেই ইঙ্গিতই দিয়েছে। নিজস্ব চিত্র