Bartaman Logo
৯ জুন, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

‘শিখণ্ডী’ নিম্নচাপের টানা বৃষ্টি বাঁকুড়ায় সব্জির বাজারে আগুন

নিম্নচাপের টানা বৃষ্টির জেরে বাঁকুড়ায় সব্জির দাম আগুন। বেগুন, ঝিঙের মতো সব্জি ‌মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। নিম্নচাপকে শিখণ্ডী করে মধ্যসত্ত্বভোগীরা জেলাজুড়ে কালোবাজারি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

‘শিখণ্ডী’ নিম্নচাপের টানা বৃষ্টি বাঁকুড়ায় সব্জির বাজারে আগুন
  • ৯ জুলাই, ২০২৫ ০৪:০০
Prefer us on Google

নিজস্ব প্রতিনিধি, বাঁকুড়া: নিম্নচাপের টানা বৃষ্টির জেরে বাঁকুড়ায় সব্জির দাম আগুন। বেগুন, ঝিঙের মতো সব্জি ‌মধ্যবিত্তের নাগালের বাইরে চলে গিয়েছে। নিম্নচাপকে শিখণ্ডী করে মধ্যসত্ত্বভোগীরা জেলাজুড়ে কালোবাজারি করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। পাইকারি ও খুচরো বাজারে দামের মধ্যে বেশি পার্থক্যের অভিযোগ প্রশাসনও মেনে নিয়েছে। সব্জির দাম নিয়ন্ত্রণের জন্য মঙ্গলবার বিভিন্ন দপ্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বাঁকুড়া জেলা পরিষদের কৃষি কর্মাধ্যক্ষ বিশ্বরূপা সেনগুপ্ত বাঁকুড়া শহরের বাজারগুলিতে অভিযান চালান। তাঁরা মাচানতালায় পুরসভার পাইকারি ও খুচরো মার্কেট ঘুরে দেখেন। কর্মাধ্যক্ষ বলেন, পাইকারি বাজারের তুলনায় খুচরো বাজারে দাম অনেক বেশি রয়েছে। নিম্নচাপের বৃষ্টির জেরে কিছু জায়গায় ফসলের ক্ষতি হয়েছে। তবে তা ঢাল করে যাতে কেউ ক্রেতাদের কাছ থেকে বেশি দাম নিতে না পারে, তারজন্য আমরা এদিন অভিযান চালিয়েছি। এদিন সব্জি বিক্রেতাদেরও সতর্ক করে হয়েছে। ফের একই কাজ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

Advertisement

এদিন সকালে বাঁকুড়া শহরের দোলতলা বাজারে সব্জির দাম বেশ চড়া ছিল। সেখানে কেজি প্রতি বেগুন ১০০-১২০ টাকা, ঝিঙে ৬০-৭০ টাকা, লাউ ৬০ টাকা, পটল ৫০ টাকা, ভেণ্ডি ৬০ টাকা, কাঁচা লঙ্কা ৮০-১০০ টাকা ও কুন্দরি ৫০ টাকা কেজি  বিক্রি হয়। একমাত্র সস্তা ছিল কুমড়ো। এদিন কিলোপ্রতি কুমড়োর দাম ছিল ২০ টাকা। বাজারে কোনও শাক ছিল না বললেই চলে। যে কয়েকজন সব্জি বিক্রেতা শাক এনেছিলেন, তা চড়া দামে তাঁরা বিক্রি করেন। অন্যান্য দিন যে এক আঁটি কলমি শাকের দাম ৩-৫ টাকা থাকে, এদিন তা ১৫ টাকায় বিকিয়েছে। ক্রেতাদের মধ্যে অসীম সরকার, টুসি অধিকারী বলেন, সব্জির দাম আকাশছোঁয়া হওয়ার কারণে বাজারে আসতে ভয় লাগছে। অনেকেই বাড়িতে ডাল, আলু সেদ্ধ ভাত খাচ্ছেন। কালোবাজারি রুখতে প্রশাসনের নজরদারি আরও বাড়ানো উচিত। দোলতলা বাজারের এক সব্জি বিক্রেতা বলেন, পাইকারি বাজারেই দাম চড়া থাকছে। ফলে আমরাও বেশি দাম নিতে বাধ্য হচ্ছি। এদিনের অভিযানে উদ্যান পালন, কৃষি বিপণন সহ অন্যান্য দপ্তরের আধিকারিকরাও ছিলেন। কৃষি দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, বৃষ্টির পরদিনই সব্জির দাম বৃদ্ধি পাওয়ার কোনও যুক্তি নেই। কারণ সঙ্গে সঙ্গে গাছ মরে না। ফলে হঠাৎ দাম বৃদ্ধির পিছনে বেশিরভাগ সময় কালোবাজারি দায়ী। তবে মাসখানেক আগে বাঁকুড়ায় নিম্নচাপের জেরে ভারী বৃষ্টি হয়েছিল। ওইসময় চাষবাসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। নীচু এলাকাগুলি টানা জলমগ্ন থাকার কারণে সব্জি গাছ পচে যায়। ফলে এখনও বাজারে সব্জির সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। তার জেরে দাম কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। আর কুমড়োর মতো কিছু সব্জি খেত থেকে তোলার পর বাড়িতে অনেকদিন পর্যন্ত রাখা যায়। এবার গ্রীষ্মকালীন কুমড়োর রেকর্ড ফলন হয়েছে। তা চাষিরা এখন বাজারজাত করছেন। সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কম রয়েছে। -নিজস্ব চিত্র

সম্পর্কিত সংবাদ