নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: শীত আসতে এখনও দেরি। তবে শীতের সবজির চাষ বিভিন্ন জেলায় পুরোদমে শুরু হয়ে গিয়েছে। নভেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকেই বাজারে জোগান বাড়বে শীতের সবজির। এই পরিস্থিতিতে উদ্বেগ বাড়িয়েছে বঙ্গোপসাগরের বুকে তৈরি হওয়া ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। এই ঘূর্ণিঝড় অন্ধ্র উপকূলে আছড়ে পড়লেও তার প্রভাবে দক্ষিণবঙ্গে অসময়ের বৃষ্টি হবে। যদি বৃষ্টি বেশি হয়, তাহলে মাঠে থাকা শীতের সবজির ক্ষতি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
হাওয়া অফিসের পূর্বাভাস, এই বৃষ্টিতে মাঠে থাকা সবজি ও কৃষিপণ্যের ক্ষতি হতে পারে। এ ব্যাপারে কৃষকদের সতর্ক করেছে তারা। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাঞ্চলীয় অধিকর্তা হবিবুর রহমান বিশ্বাস জানিয়েছেন, যে মাত্রায় বৃষ্টি হতে পারে, তাতে সবজি, ফল, ফুলচাষে কিছুটা ক্ষতি হতে পারে। তবে মাঠে থাকা পাকা ধানের ক্ষতি না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। ঝড় হলে ধান গাছের ক্ষতি হয় বেশি। পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, উপকূল লাগোয়া এলাকা ছাড়া অন্যত্র জোরালো হাওয়ার সম্ভাবনা কম। এদিকে, বৃষ্টির আশঙ্কায় প্রথম পর্যায়ে আলু চাষ শুরু করতে দেরি হবে। ফলে রাজ্যে উৎপাদিত নতুন আলু বাজারে আসতে কিছুটা দেরি হতে পারে।
রাজ্য সবজি ভেন্ডার অ্যাসোসিয়েশনের নেতা ও কোলে মার্কেটের আধিকারিক কমল দে জানিয়েছেন, এই সময় অল্প বৃষ্টি হলে খুব একটা ক্ষতি হবে না। কিন্তু বেশি বৃষ্টি হলে ও মাঠে জল দাঁড়িয়ে গেলে সমস্যা। কলকাতা লাগোয়া দুই ২৪ পরগনা, নদীয়া, হুগলি সহ দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় এখন ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন প্রভৃতির চাষ চলছে। পরিমাণে কম হলেও কোথাও কোথাও পটল, ঢেঁড়শ প্রভৃতি গরমের সবজি এখনও মাঠে রয়েছে। একটু জল পেলেই এই ধরনের সবজি পচে যায় ও পোকা ধরে। এই সবজি নষ্ট হলে বাজারে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা থেকেই যায়।
বাজারে অবশ্য এখনই শীতের সবজি ঢুকতে শুরু করেছে। তার একটা বড়ো অংশ আসছে ভিন রাজ্য থেকে। রাজ্যে উৎপাদিত ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, বেগুন অল্প অল্প করে বাজারে ঢুকছে। তবে দাম বেশ চড়া। ছত্তিশগড় থেকে আসা বেগুন পাইকারি বাজারে পাওয়া যাচ্ছে ৫০ টাকা কেজি দরে। সেখানে অবশ্য পাইকারি বাজারে স্থানীয় বেগুনের দাম কেজি প্রতি ৩৫ টাকা। স্থানীয় ফুলকপি পাইকারি বাজারে মিলছে ১৫-২০ টাকায়। সেখানে রাঁচির ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকায়। শিমের দাম অবশ্য বেশ চড়া। পাইকারি বাজারে কেজি প্রতি দাম ৭০ টাকা।



