নিজস্ব প্রতিনিধি, মেদিনীপুর: বড়দিনের আনন্দে মাতোয়ারা গোটা জেলা। সেই আবহেই পশ্চিম মেদিনীপুরে ২৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে শুনানি। এই শুনানিতে ডাকা হয়েছে ৬৫ হাজারের বেশি ভোটারকে। ইতিমধ্যেই শুনানি সম্পন্ন করতে প্রশাসনিক স্তরে প্রস্তুতি তুঙ্গে। জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় প্রায় ২ লক্ষ ৩ হাজার ৩৩৩ জনের নাম বাদ পড়তে চলেছে। তবে আপাতত নো ম্যাপিং ভোটারদেরই শুনানিতে ডাকা হচ্ছে। প্রশাসনের এক আধিকারিকের কথায়, জেলায় মৃত ভোটার ৮৫ হাজার ২৫৪ জন। খসড়া নির্বাচনী তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পরে বুথ ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। শুনানির পর বিপুল সংখ্যক নাম বাদ পড়বে। এদিন মেদিনীপুরের মহকুমা শাসক মধুমিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, গোটা প্রক্রিয়াটি সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে। প্রশাসন সাধারণ মানুষের পাশে আছে। সরকারি নিয়ম মেনেই শুনানি সম্পন্ন হবে।
উল্লেখ্য, পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ভোটারের সংখ্যা ৪০ লক্ষ ১৫ হাজার ৮৯৭। তার মধ্যে পুরুষ ভোটার ২০ লক্ষ ২৪ হাজার ২০৩ জন ও মহিলা ভোটার ১৯ লক্ষ ৯১ হাজার ৬৪৪ জন। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় একশো শতাংশ ভোটারের কাছে এসআইআরের ফর্ম দেওয়া হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ৩৮ লক্ষ ১২ হাজার ৫৫৬ জন ভোটারের তথ্য ডিজিটাইজ হয়েছে। নাম বাদ যাওয়ার দিক থেকে সবচেয়ে এগিয়ে খড়গপুর সদর বিধানসভা। নো ম্যাপিং লিস্ট অনুযায়ী ৬৫ হাজার নো ম্যাপিং ভোটারের মধ্যে শুধু মেদিনীপুর বিধানসভারই ৯ হাজার ৩৯০ ভোটার, খড়্গপুর সদর বিধানসভার ২১ হাজার ৬০০ ভোটার, খড়্গপুর বিধানসভার ৫ হাজার ২৪১ ভোটার, ঘাটাল বিধানসভার ২ হাজার ১১৮ ভোটার, কেশিয়াড়ি বিধানসভার ২ হাজার ৮৪১ ভোটার, কেশপুর বিধানসভার ১ হাজার ৪০২ ভোটার ও শালবনী বিধানসভার ২ হাজার ৮১৫ জন ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হবে।
মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূলের সভাপতি সুজয় হাজরা বলেন, সামান্য এসআইআরের কাজে বিজেপি নেতাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফের মানুষকে সমস্যায় পড়তে হয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়া যাতে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়, সেদিকে নজর দিয়েছেন দলের কর্মীরা। মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ সভাপতি শঙ্কর গুছাইত বলেন, এই ভুয়ো ভোটারদের তৃণমূল ভোটের সময় ব্যবহার করত। এসআইআর হওয়ার পর তৃণমূল ভয় পেয়ে গিয়েছে।