সঞ্জিত সেনগুপ্ত, শিলিগুড়ি: পুজোর ছুটিতে সরকারি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালগুলিতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি এবং পরিষেবা নিয়ে কড়া অবস্থান নিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী। উৎসবের দিনগুলিতে চিকিৎসকদের ছুটি নেওয়া এবং হাসপাতালের পরিষেবা পরিচালনা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠার পরেই বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে স্বাস্থ্যদপ্তর। আগামী দিনে পুজোর ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত টানা ছুটি নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করার বার্তা দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়।
এবার দুর্গাপুজোর ছ’দিনে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১২৭ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। তখনই পুজোর মধ্যে চিকিৎসকদের একটানা ছুটি নেওয়ার প্রবণতা নিয়ন্ত্রণের জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বার্তা তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। মহালয়ার পর থেকেই চিকিৎসকদের ছুটি নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ করতে হবে বলে জানানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, পুজোর দিনগুলিতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও সিনিয়র চিকিৎসকদের উপস্থিতি কি পর্যাপ্ত ছিল?
হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ১৬ জন রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে, সেখানে পুজোর দিনগুলিতে সেই সংখ্যা বেড়ে দৈনিক গড়ে ২০ থেকে ২১-এ পৌঁছয়। এই পরিসংখ্যান সামনে আসতেই পুজোয় চিকিৎসকদের উপস্থিতি, পরিষেবার মান এবং ছুটির রোস্টার নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।
রাজ্যের বিভিন্ন সরকারি হাসপাতাল থেকেও পুজোর সময় চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে নানা অভিযোগ ওঠার পরই স্বাস্থ্যদপ্তরের এই অবস্থান বলে মনে করা হচ্ছে। কোথাও কোথাও হাসপাতালের সিনিয়র চিকিৎসক ও কর্তাদের অনুপস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই পরিস্থিতিতে পুজোর ছুটিতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
তবে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিন্সিপাল ডাঃ সুজয় মিস্ত্রি এই ঘটনাকে অন্যভাবে দেখছেন। তাঁর বক্তব্য, পুজোর আগেই চিকিৎসকদের ডিউটি রোস্টার তৈরি করা হয়েছিল। কোন দিন কোন চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত থাকবেন, তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছিল। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য রাজ্যের অন্যান্য মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে হয়ে থাকতে পারে।
একই বক্তব্য হাসপাতালের সুপার ডাঃ কৌশিক ঈশোরের। তাঁর দাবি, স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিস্থিতির সঙ্গে জুড়ে দেখা ঠিক হবে না। রাজ্যের অন্যান্য সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুজোর সময় যে সমস্যার অভিযোগ উঠেছে, তার প্রেক্ষিতেই এই নির্দেশ বলে তিনি মনে করছেন।
এদিকে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছ’দিনে ১২৭ জন রোগীর মৃত্যুর কারণ খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন রোগী কল্যাণ সমিতির চেয়ারম্যান তথা মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির বিধায়ক তথা প্রতিমন্ত্রী আনন্দময় বর্মন। কেন এত সংখ্যক রোগীর মৃত্যু হল, চিকিৎসা পরিষেবায় কোনো ঘাটতি ছিল কি না এবং পুজোর দিনগুলিতে চিকিৎসকদের উপস্থিতি কেমন ছিল, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।



