সংবাদদাতা, বনগাঁ: অন্যান্য দিন একটি হুইল চেয়ার জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হয় রোগীর পরিবারকে। শুক্রবার রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী আসবেন খবর আসার পর ইমার্জেন্সির সামনে ছ’টি হুইল চেয়ার সারি দিয়ে রাখা। অন্যান্য দিন হাসপাতাল চত্বরে টোটো, বাইক সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে যাতায়াতে সমস্যা করে। এদিন সেগুলির দেখা মিলল না। যত্রতত্র ছড়িয়ে থাকে জঞ্জাল। এদিন তাও নেই। হাসপাতালের কর্মীরা আশ্চর্যজনকভাবে তৎপর। স্বাস্থ্যকর্মীরা মাথায় টুপি পরে নিয়েছেন। কারও হাতে গ্লাভসও দেখা গিয়েছে। তবে সবচেয়ে আশ্চর্য করেছে ইমার্জেন্সির সামনের ছবিটা। সেখানে রাখা হুইলচেয়ার! শুক্রবার দুপুরে বনগাঁ হাসপাতাল পরিদর্শনে আসছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই বনগাঁ হাসপাতালের ছবিটা আমূল যায় বদলে।
রোগীর আত্মীয়দের বক্তব্য, অনেক চিকিৎসককে নির্দিষ্ট পোশাকে দেখা গিয়েছে। হাসপাতালের নিরাপত্তারক্ষী ও পুলিশের তৎপরতা চোখে পড়ার মতো। এই সব বিরল ছবি দেখে রোগীর আত্মীয়রা বললেন, ‘মন্ত্রী আসুন আর নাই আসুন, এরকম খবর রোজ ছড়াক। তবে একটু ঠিকঠাক পরিষেবা মিলবে।’
শুক্রবার সকাল থেকে কারও কাছে কোনো খবর না ছিল না। যেমন চলে তেমনই চলছিল হাসপাতালের কাজ। দুপুরে হঠাৎ খবর আসে বনগাঁ হাসপাতাল পরিদর্শনে আসছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। দ্রুত খবর পৌঁছে যায় হাসপাতালের ডেপুটি সুপারের কাছে। খবর যায় ওয়ার্ডগুলিতে। মুহূর্তের মধ্যে হাসপাতালের ভিতরের ভিড় উধাও। সব যানবাহন সরিয়ে দেওয়া হয়। গেটের সামনে দাঁড়িয়ে পড়েন নিরাপত্তারক্ষীরা। ইমার্জেন্সির সামনে তড়িঘড়ি দাঁড় করানো হয় ছ’টি হুইলচেয়ার, দু’টি ট্রলি। রক্তের কিংবা কোনো নোংরার দাগ সে ট্রলিতে নেই। বাইরের প্যাথলজিক্যাল ল্যাবরেটরির প্রতিনিধিরা হঠাৎ বেপাত্তা হাসপাতাল চত্বর থেকে। চিকিৎসকদের সঙ্গে থাকা একজন করে বহিরাগত যুবক হাসপাতালের বাইরে চলে গেলেন। আধিকারিক-কর্মীরা কার কি ত্রুটি ধরা পড়ে তা নিয়ে ফিসফাস শুরু করলেন। হাসপাতাল চত্বরে থাকা অস্থায়ী দোকানদাররা মন্ত্রীর আসা নিয়ে আলোচনায় মাতলেন। সবমিলিয়ে চেনা হাসপাতালের ঢিলেঢালা ছবি আচমকা হয়ে উঠল অচেনা।দুরুদুরু বুকে অপেক্ষা চলতেই থাকল। কিন্তু শেষপর্যন্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতাল পরিদর্শনে এলেন না। স্থানীয়রা এবং রোগীর আত্মীয়রা বললেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পরিদর্শনের খবর প্রতিদিন ছড়িয়ে পড়ুক। তবেই পরিষেবা মিলবে।’ নিজস্ব চিত্র