সংবাদদাতা, শিলিগুড়ি: কালীপুজোর পর রাজ্যে ভুয়ো চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বড়োসড়ো অভিযানে নামা হবে, নবান্নের এই ঘোষণা ঘিরে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। স্বাস্থ্যদপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যের বিভিন্ন নার্সিংহোমে রেজিস্ট্রেশনহীন ডাক্তারদের অবৈধভাবে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। সেই তালিকায় শিলিগুড়ি সহ উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন নার্সিংহোমও আছে।
সম্প্রতি উত্তরবঙ্গ সহ রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় স্বাস্থ্যদপ্তরের বিশেষ দল অভিযান চালিয়ে একাধিক অনিয়মের হদিশ পেয়েছে। নার্সিংহোমগুলিতে জুনিয়র চিকিৎসকদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তির চিকিৎসক হিসাবে কাজ করার অভিযোগ সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল লাগোয়া নার্সিংহোমগুলির দিকেও বিশেষ নজর রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
অভিযোগ, উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের একাংশ ইন্টার্নশিপ চলাকালীন রেজিস্ট্রেশন পাওয়ার আগেই বিভিন্ন নার্সিংহোমে আরএমও হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন। আবার অনেক জুনিয়র ডাক্তার সরকারি হাসপাতালে ডিউটি করার পাশাপাশি নার্সিংহোমেও সমানতালে একই সময়ে কাজ করছেন। আরও গুরুতর অভিযোগ, কিছু জুনিয়র চিকিৎসক নিজেদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর নার্সিংহোমগুলিকে ব্যবহারের জন্য দিয়ে দিচ্ছেন। তাঁরা সরকারি হাসপাতালে দায়িত্ব পালন করলেও তাঁদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করে অন্য কেউ নার্সিংহোমে রোগী দেখছেন। এমনকী প্রেসক্রিপশনেও সংশ্লিষ্ট জুনিয়র চিকিৎসকদের নাম ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। স্বাস্থ্যদপ্তরের সাম্প্রতিক অভিযানে এ ধরনের অনিয়মের হদিশ মিলেছে বলে সূত্রের দাবি।
একদিকে সরকারি মেডিকেল কলেজে দায়িত্ব, অন্যদিকে নার্সিংহোমে চিকিৎসা— এই দ্বৈত ভূমিকা নিয়ে এবার প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিযোগ, হাসপাতালের ডিউটিতে উপস্থিতি দেখিয়ে বেরিয়ে গিয়ে নার্সিংহোমে দায়িত্ব পালনও করছেন একাংশ। আবার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ভাড়া দেওয়ার মাধ্যমে অন্যদের অবৈধভাবে চিকিৎসা করার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে কালীপুজোর পর রাজ্যজুড়ে অভিযানে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজের জুনিয়র ও হবু চিকিৎসকদের একাংশের নাম উঠে আসে কি না, তা নিয়েই এখন জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সুপার ডাঃ কৌশিক ঈশোর জানান, নির্দিষ্টভাবে এ ধরনের অভিযোগ তাঁর কাছে নেই। তবে জুনিয়র চিকিৎসকদের উপস্থিতি ও গতিবিধি নিয়ন্ত্রণে স্বাস্থ্যদপ্তর কঠোর পদক্ষেপের পথে হাঁটছে। সাম্প্রতিক একাধিক ভার্চুয়াল বৈঠকেও জুনিয়র চিকিৎসকদের নানা অনিয়ম এবং বিভিন্ন জায়গায় চিকিৎসা পরিষেবা সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
হাসপাতালে জুনিয়র চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে খুব শীঘ্রই বায়োমেট্রিক অ্যাটেনডেন্স ব্যবস্থা চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই মতো প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো তৈরির কাজও এগিয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্রে খবর।



