নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: হার্ট অ্যাটাকের মতো আপৎকালীন পরিস্থিতিতে রোগীকে আর কলকাতার হাসপাতালে ছুটতে হবে না। আগামী জানুয়ারিতেই হাওড়া জেলা হাসপাতালে চালু হতে চলেছে ১০০ শয্যার ক্রিটিকাল কেয়ার ব্লক (সিসিবি)। একইসঙ্গে জেলায় সরকারি হাসপাতালে প্রথম ক্যাথ ল্যাবও চালু করার প্রস্তুতি চলছে। ফলে হৃদরোগের জটিল চিকিৎসার ক্ষেত্রে জেলা হাসপাতালের পরিকাঠামোয় বড়োসড়ো সংযোজন হতে চলেছে। ইতিমধ্যেই নতুন ভবনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন অত্যাধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম বসানোর প্রস্তুতি চলছে।
কেন্দ্রের সুস্বাস্থ্য প্রকল্পে ২০২৪ সালের মার্চ মাসে এই ক্রিটিকাল কেয়ার ব্লক এবং ইন্টিগ্রেটেড পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরি তৈরির কাজ শুরু হয়। জায়গার অভাবে প্রথমে সমস্যা দেখা দিলেও পুরানো কয়েকটি ভবন ভেঙে নির্মাণকাজ শুরু হয়। পরে ডায়ালিসিস ও অক্সিজেন ইউনিটের দু’টি ঘরকে কেন্দ্র করে ফের জটিলতা দেখা দেয়। সেই বাধা কাটিয়ে প্রায় আটতলা ভবন তৈরির কাজ শেষ হয়েছে। গোটা প্রকল্পে রাজ্য সরকার প্রায় ৪৬ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। ভবন নির্মাণে খরচ হয়েছে ৩০ কোটি ৫৫ লক্ষ টাকা। চিকিৎসার সরঞ্জাম কেনার জন্য বরাদ্দ ১৩ কোটি ৯৫ লক্ষ টাকা। ইন্টিগ্রেটেড পাবলিক হেলথ ল্যাবরেটরির জন্য ব্যয় হচ্ছে আরও ১ কোটি ২৫ লক্ষ টাকা।
সিসিবিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন হল, জেলায় সরকারি স্তরে প্রথম ক্যাথ ল্যাব। সেখানে করোনারি অ্যাঞ্জিওগ্রাফি, অ্যাঞ্জিওপ্লাস্টি, স্টেন্ট বসানো, পেসমেকার প্রতিস্থাপন, কার্ডিয়াক ক্যাথেটারাইজেশন এবং ইলেক্ট্রো-ফিজিওলজির মতো চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া সম্ভব হবে। হাওড়ার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ কিশলয় দত্ত বলেন, ‘এতদিন হৃদরোগের জটিল চিকিৎসার জন্য রোগীদের কলকাতায় যেতে হত। জেলা হাসপাতালেই দ্রুত চিকিৎসা মিললে প্রাণহানির আশঙ্কা কমবে।’ নতুন ব্লক চালু হলে হাসপাতালের বর্তমান পরিষেবা ব্যবস্থাতেও বদল আসবে। বর্তমানে মূল ভবন এস এন দাস বিল্ডিংয়ের একতলায় জরুরি বিভাগ ও বহির্বিভাগ চলে। জায়গাটি সংকীর্ণ, তাই একটু ভিড় হলে সামলানো মুশকিল হয়। নতুন ভবন চালু হলে সেখানে জরুরি বিভাগ সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে। ফলে এস এন দাস বিল্ডিংয়ের একতলার পুরোটাই বহির্বিভাগের জন্য ব্যবহার করা সম্ভব হবে। রোগীদের ভিড় ও টিকিটের লাইনের সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা স্বাস্থ্যকর্তাদের। বর্তমানে হাসপাতালে অনুমোদিত শয্যা সংখ্যা ৬৫০টি। তার মধ্যে চালু রয়েছে ৫১৬টি। নতুন ব্লকে আরও ১০০টি শয্যা যুক্ত হলে রোগী পরিষেবার পরিসর বাড়বে।



