Bartaman Logo
১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন বিক্রি চক্রের মূল মাথা হক, তদন্তে স্বাস্থ্যদপ্তর

বর্ধমানের ভুয়ো চিকিৎসক হক রেজিস্ট্রেশন বিক্রি চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড।

ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন বিক্রি চক্রের মূল মাথা হক, তদন্তে স্বাস্থ্যদপ্তর
  • ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: বর্ধমানের ভুয়ো চিকিৎসক হক রেজিস্ট্রেশন বিক্রি চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড। কলকাতার কয়েকজন প্রভাবশালীর সঙ্গে যোগসাজশ করে সে দেদার রেজিস্ট্রেশন বিক্রি করেছে বলে অভিযোগ। উত্তরবঙ্গ থেকে মেদিনীপুর সব জায়গাতেই তার নেটওয়ার্ক ছড়িয়ে। বর্ধমানেরও কয়েকজনকে সে প্রায় ৫০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন পাইয়ে দিয়েছিল বলে স্বাস্থ্য দপ্তরের আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন। হক উত্তরবঙ্গেও বেশ কিছুদিন ছিল। সেখানেও সে রেজিস্ট্রেশন বিক্রির  করেছে। আর সেটা করেই কয়েক বছরের মধ্যেই সে বিপুল সম্পত্তির মালিক হয়ে উঠেছে। বর্ধমান শহরে নবাবহাটের কাছে একটি উপনগরীতে তাঁর বাংলো রয়েছে। এছাড়া শহরে একাধিক ফ্ল্যাটের মালিক। সম্প্রতি, বর্ধমান-সিউড়ি রোডে সে রিসর্ট তৈরি করেছে। বিজেপি নেতা মৃত্যুঞ্জয় চন্দ্র বলেন, ‘সব দিক থেকেই তদন্ত হবে। তৃণমূল জামানায় তার বাড়বাড়ন্ত হয়েছিল। সেই সময় তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে তার সু-সম্পর্ক ছিল। সেই কার঩ণেই এত কিছু করতে পেরেছে। বর্ধমান শহরে আরও কয়েকজন ভুয়ো চিকিৎসক রয়েছে। তাদের কেউ আর্টস আবার কেউ কর্মাসের ছাত্র। তাদের বিরুদ্ধেও লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে।’

Advertisement

বর্ধমানের নবাবহাটের চিকিৎসা করাতে এসেছিলেন শ্যামসুন্দর দাস। তিনি বলেন, ‘এতদিন জানতাম বর্ধমানে ভাল চিকিৎসা হয়। কিন্তু এখানে এত ভুয়ো চিকিৎসক রয়েছে বলে জানতাম না। এখন এখানে চিকিৎসা করতে আসতেই ভয় লাগছে।’ আর এক রোগীর আত্মীয় অর্পণ পাত্র বলেন, এখানকার নার্সিংহোমে রোগী ভর্তি করলেই ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকা বিল হবেই। ভুয়ো চিকিৎসক চিকিৎসা করছে কিনা সেটা জানার উপায় নেই।’ স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ভুয়ো ডাক্তারদের অন্যতম ভরসা দালালরা। তারাই তাদের কাছে রোগী এনে দেয়। আবার কোনও রোগী মারা গেলে নার্সিংহোমে সবার আগে সেই দালালরা হাজির হয়ে যায়। প্রতিবাদ করলেই তারা রোগীর আত্মীয়দের উপর চড়াও হয়। স্বাস্থ্যদপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, ভুয়ো রেজিস্ট্রেশন নিয়ে একটি সংগঠনের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ করা হয়েছে। তা খতিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি খেলেছে তাদের ছাড়া হবে না। 
গলসির বিধায়ক রাজু পাত্র বলেন, ‘ভুয়ো চিকিৎসকদের জেলে যেতেই হবে। তাদের অনেকেই এখন লুকিয়ে রয়েছে। তবে বেশিদিন পালিয়ে বাঁচতে পারবে না। তৃণমূলের জমানায় বাইরের বহু লোককে মেডিকেল কাউন্সিল চিকিৎসা করার অনুমতি দিয়েছে। মেডিকেল কাউন্সিলের ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন, অনেকে আবার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ছাড়াই জমিয়ে প্র্যাকটিস করছে। তারা তাদের নামের পাশে বড় বড় ডিগ্রি লিখছে। সাধারণ মানুষের পক্ষে বোঝা সম্ভব নয়, কোনটা আসল বা কোনটা নকল। অনেকেই দালালদের খপ্পরে পড়ে ভুয়ো ডাক্তারদের খপ্পড়ে পড়ে যাচ্ছেন। এর একটা বিহিত হওয়া উচিত।’

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ