Bartaman Logo
১০ জুন, ২০২৬
বর্তমান / কলকাতা

ডাকাতি রুখতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন, আজও উঁকি দেয় দৌলতের স্মৃতিসৌধ

কলকাতার বুকে হেরিটেজ বা ঐতিহ্যবাহী বিল্ডিংয়ের সংখ্যা কম নয়। শহরে বহু স্থাপত্য বা কীর্তি রয়েছে, যার পরতে পরতে রয়েছে ইতিহাসের ছোঁয়া।

ডাকাতি রুখতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছিলেন, আজও উঁকি দেয় দৌলতের স্মৃতিসৌধ
  • ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ০৪:০০
Prefer us on Google

অর্ক দে,কলকাতা: কলকাতার বুকে হেরিটেজ বা ঐতিহ্যবাহী বিল্ডিংয়ের সংখ্যা কম নয়। শহরে বহু স্থাপত্য বা কীর্তি রয়েছে, যার পরতে পরতে রয়েছে ইতিহাসের ছোঁয়া। রয়েছে বিপ্লবী থেকে শুরু করে মনীষীদের মূর্তি, বিভিন্ন ঘটনার সাক্ষী একাধিক মেমোরিয়াল। কিন্তু, শহরের এক সাধারণ যুবককেও মৃত্যুর পর যে এভাবে মনে রাখা যায়, তা একমাত্র কলকাতাই পারে। আজ থেকে প্রায় ৯৪ বছর আগে পার্ক সার্কাসে বেড়ে ওঠা যুবক দৌলত হোসেনের স্মৃতিকে আজও মনে রেখেছে এই শহর। ডাকাতি রুখতে গিয়ে সেদিন প্রাণ দিয়েছিলেন বছর আঠারোর সেই তরতাজা যুবক। বেকবাগানে আজও উজ্জ্বল তাঁর স্মৃতিসৌধ। যদিও, তাতে ময়লা জমেছে। পড়েছে সময়ের ধুলো।

Advertisement

পার্ক সার্কাসের বেকবাগানে এক নামী শপিং মলের ঠিক ডানদিক বরাবর যে রাস্তাটি ঢুকে গিয়েছে, সেটি শামসুল হুদা রোড। সেই রাস্তায় ঢুকে ৪০০ মিটার এগলেই ডানদিকে চোখ পড়বে একটি স্মৃতিসৌধে। কালো লোহার গ্রিলে ঘেরা ছোট আকৃতির গম্বুজের মতো দেখতে। তার উপর লেখা দৌলত হোসেন মেমোরিয়াল।

কে এই দৌলত হোসেন? ১৯৩১ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনা। এই গলিতেই একটি দোকানে হানা দিয়েছিল ডাকাতদল। তারা এসেছিল গাড়িতে করে এসেছিল। হাতে ছিল বন্দুক। ডাকাতির পর পালানোর সময় তারা এলোপাথাড়ি গুলি ছো঩ড়ে। স্বাভাবিকভাবেই পথচারীরা ভয় পেয়ে যান। তখন ডাকাতদের বিরুদ্ধে একমাত্র বুক চিতিয়ে লড়াই করেছিলেন পাড়ার ছেলে আঠারো পেরনো দৌলত। ডাকাতদের গাড়িটি আটকানোর চেষ্টা করেছিলেন তিনি। তখনকার দিনে গাড়ির দু’পাশে দরজার নীচে ফুট বোর্ড থাকত। দৌলত দৌড়ে ড্রাইভারের দিকের ফুট বোর্ডে উঠে পড়েন এবং চলন্ত গাড়ির স্টিয়ারিং টেনে ধরে টানাহ্যাঁচড়া করতে থাকেন। যাতে চালক বেসামাল হয়ে যান। অস্ত্রধারী ডাকাতরা ওই দৃশ্য দেখে দৌলতের উপর গুলি চালায় এবং ছিটকে রাস্তায় পড়েন তিনি। মারা যান দৌলত।

কলকাতা মিউনিসিপাল গেজেট থেকে জানা যায়, ওই ঘটনা এবং দৌলত হোসেনের বীরত্বের কাহিনিকে মনে রাখতেই এই স্মৃতিসৌধটি তৈরি করা হয়েছিল। যার শিলান্যাস হয়েছিল ১৯৩২ সালের ২৯ মে। গোটা চত্বর সেদিন লোকে লোকারণ্য হয়ে গিয়েছিল। কলকাতার বুকে রয়েছে সঈদ আমির আলি অ্যাভিনিউ। তাঁর ছেলে টি আমির আলি এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। সরকারের তরফ থেকে দৌলতের মায়ের হাতে ১৫০০ টাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল। তারপর কী হল? দৌলত হোসেনের পরিবারের কোনও বংশধরের অবশ্য এখন হদিশ পাওয়া যায় না। তৎকালীন সময়ে কলকাতায় সাধারণ মানুষের বীরত্বকে এতটা গুরুত্ব দেওয়া হতো, এই ঘটনা সেটাই প্রমাণ করে। 

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ