১৯৫৩ সাল। ‘ভগবান শ্রীকৃষ্ণ চৈতন্য’ সিনেমার পরিকল্পনা করেন দেবকী কুমার বসু। বিষ্ণুপ্রিয়া চরিত্রে অভিনয়ের জন্য একজন শিল্পী খুঁজছিলেন তিনি। সেই সময় পাহাড়ি সান্যাল সুচিত্রা সেনকে নিয়ে গেলেন দেবকীবাবুর কাছে। তখনও ইন্ডাস্ট্রিতে ‘মিসেস সেন’ নামে পরিচিত হননি তিনি। তৈরি হয়নি উত্তম-সুচিত্রার হিট জুটি। সুচিত্রা তখন অল্প বয়সে বিবাহিতা নতুন এক অভিনেত্রী। সেদিন দেবকী কুমারের বাড়িতে লুক টেস্ট হল। বিষ্ণুপ্রিয়ার চরিত্রে সিলেক্ট করা হল তাঁকে। কিন্তু এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেননি পরিচালকের সহকারীরা। নবাগতা একজন এত বড় একটি ছবিতে অভিনয় করবেন! তা আবার কেমন করে হয়! সেই চ্যালেঞ্জটাই নিয়েছিলেন দেবকী কুমার। সুচিত্রা সেনের মধ্যে বৈষ্ণব দর্শনের বীজ বপন করলেন তিনি। নবাগতা অভিনেত্রী পর্দায় যেন হয়ে উঠলেন সাক্ষাৎ বিষ্ণুপ্রিয়া। হুবহু ফুটিয়ে তুললেন সেই ভাব, দর্শন। এই ছবির প্রস্তুতি পর্বেও পরিশ্রম করতে হয়েছিল সুচিত্রা সেনকে। পরিচালক তাঁকে বলেছিলেন, যতদিন ছবির শ্যুটিং চলবে, ততদিন নিরামিষ খেতে হবে। রাজি হয়েছিলেন তিনি। একমাস ধরে চলেছিল ছবির শ্যুটিং। একদিনও আমিষ স্পর্শ করেননি। সুচিত্রা সেন ছিলেন পাবনার মানুষ। তাই পূর্ববঙ্গীয় টান ছিল তাঁর কথায়। তবে দেবকী কুমারের ছত্রচ্ছায়ায় সেই টান বোঝাই গেল না ছবিতে। পরিচালক নাকি তাঁকে বলেছিলেন, ‘রোজ হা কৃষ্ণ, হা কৃষ্ণ বলা অভ্যাস করো।’ যখনই সময় পেতেন, অনুশীলন করতেন সুচিত্রা। আত্মিকভাবে ডুবে যেতে চেয়েছিলেন বিষ্ণুপ্রিয়ার মধ্যে। এই ছবির হাত ধরে মাত্র ২১-২২ বছর বয়সে তাঁর সামনে আধ্যাত্মিক দর্শনের এক নতুন পথ খুলে গিয়েছিল। সেই ভাবাদর্শ এবং আত্মিক ভাব তাঁর শেষ বয়স পর্যন্ত বজায় ছিল। রামকৃষ্ণ মিশনের সান্নিধ্য আজীবন তাঁর কাছে ছিল এক আধ্যাত্মিক প্রেরণার মতো।



