


পিরামিড নিয়ে কৌতূহলের অন্ত নেই। পৃথিবীর এই সপ্তম আশ্চর্যের নীচে লুকিয়ে রয়েছে হাজার হাজার বছরের ইতিহাস। এখনও যার নাগাল পাওয়া সম্ভব হয়নি। তবে মিশরীয় সভ্যতার জনপ্রিয়তম শাসক ক্লিওপেট্রার সমাধি কি সত্যিই পাওয়া গেল? তেমনই আশার বাণী শুনিয়েছেন একদল প্রত্নতত্ত্ববিদ। কায়রো থেকে ৬০ মাইল দূরের প্রাচীন শহর ট্যাপোসিরিস মাগনাতে চলছে খননকার্য। উদ্ধার হয়েছে নানা সামগ্রী। সেগুলি খতিয়ে দেখে খননকার্য টিমের প্রধান ক্যাথলিন মার্টিনেজ মনে করছেন, ওই অঞ্চলের কোথাও প্রেমিক মার্ক অ্যান্তোনির সঙ্গে শান্তির শয্যায় শায়িত ক্লিওপেট্রা। আজও সৌন্দর্য্য ও বুদ্ধিমত্তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ হিসেবে প্রাচীন মিশরের শাসক সপ্তম ক্লিওপেট্রার নামই উচ্চারিত হয়। সাহিত্য থেকে চিত্রকলা-শিল্পকর্মে তাঁর ছিল অবাধ বিচরণ। সেই ক্লিওপেট্রার সমাধি খুঁজতে প্রতি বছর লক্ষ লক্ষ বিদেশি মুদ্রা খরচ করে চলেছেন প্রত্নতাত্ত্বিকরা। সত্যিই তাঁর সমাধি পেলে নিঃসন্দেহে তা বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দেবে। তাই ক্যাথলিন মার্টিনেজদের অভিযানের দিকে তাকিয়ে গোটা বিশ্ব। ওই এলাকা পরীক্ষা করে দলটি একপ্রকার নিশ্চিত যে, আশেপাশেই কোথাও সমাধিস্থ রয়েছেন ক্লিওপেট্রা। ২৭টি সমাধি ও ১০টি মমির খোঁজও মিলেছে সেখানে। তবে তা ক্লিওপেট্রা বা তাঁর সমসাময়িক নয়। প্রত্নতাত্ত্বিক দলটি মনে করছে, ট্যাপোসিরিস মাগনা স্থিত দুই মন্দির আইসিস ও ওসিরিসের নীচে সমাধিস্থ রয়েছেন মিশরীয় শাসক ও তাঁর প্রেমিক। তাঁদের যুক্তি, মন্দির সংলগ্ন এলাকায় খননকাজ চালিয়ে মিলেছে একটি মূর্তি, ক্লিওপেট্রার ছবি সম্বলিত ২২টি মুদ্রা এবং একটি মুখোশ। মনে করা হচ্ছে, অ্যান্তোনির মৃত্যুশয্যায় মুখোশটি ব্যবহার করা হয়ে থাকতে পারে। যদিও এবিষয়ে এখনও শক্তপোক্ত তথ্যপ্রমাণ মেলেনি। তবে আশা ছাড়েননি বিশ্বের অসংখ্য প্রত্নতত্ত্ববিদ। খোঁজ চলছে।