


মুম্বই: সেপ্টেম্বরের শেষে ভারতে বসছে মহিলাদের ওডিআই বিশ্বকাপ। ৩০ তারিখ বেঙ্গালুরুতে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে উদ্বোধনী ম্যাচের মাধ্যমে অভিযান শুরু করবে হোম টিম। অতীতে কখনও এই আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়নি টিম ইন্ডিয়া। সেজন্যই এবার মরিয়া হরমনপ্রীত কাউররা। কাপযুদ্ধের মহড়া হিসেবে ফেভারিট অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে তিন ম্যাচের ওয়ান ডে সিরিজে অংশ নেবেন তাঁরা। ১৪, ১৭ ও ২০ সেপ্টেম্বর মুখোমুখি হবে দুই দেশ। তখনই স্পষ্ট হবে, কাপের লড়াইয়ে ভারতীয় মহিলা ক্রিকেট দল কতটা শক্তিশালী।
অবশ্য কিছুদিন আগেই ইংল্যান্ডকে তাদের দেশে গিয়ে ওডিআই এবং টি-২০ সিরিজে হারিয়ে এসেছেন হরমনপ্রীতরা। সেই জয় আত্মবিশ্বাস বাড়াচ্ছে। সোমবার বিশ্বকাপের আবরণ উন্মোচন অনুষ্ঠানে ক্যাপ্টেন হরমনপ্রীত বললেন, ‘এত বছরের হতাশা কাটিয়ে চ্যাম্পিয়ন হওয়াই লক্ষ্য। দেশবাসী অধীর আগ্রহে আমাদের কাপ জয়ের প্রতীক্ষায় রয়েছেন। আর বিশ্বকাপের ব্যাপারই আলাদা। এর সঙ্গে অন্য কোনও কিছুর তুলনা হয় না। আমি বরাবরই দেশের হয়ে খেলার সময় স্পেশাল অবদান রাখতে চেয়েছি। আর যখনই যুবি ভাইয়াকে দেখি, অনুপ্রাণিত হই।’ অনুষ্ঠানে যুবরাজ সিং ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ভারতের মহিলা ক্রিকেট দলের প্রাক্তন ক্যাপ্টেন মিতালি রাজ। বর্তমানের মহিলা ক্রিকেটারদের মধ্যে হরমনপ্রীত ছাড়াও স্মৃতি মান্ধানা, জেমিমা রডরিগেজকে ছিলেন মঞ্চে। যুবরাজ বলেন, ‘বিশ্বকাপ জেতার জন্য পরিস্থিতি অনুসারে খেলা জরুরি। প্রত্যাশার চাপে ভুগলে চলবে না। ইতিহাস তৈরির এটা সুবর্ণ সুযোগ। তবে প্রতিযোগিতার শুরু থেকে সেটা মাথায় রাখলে ভুল হবে। উপভোগ করা দরকার প্রতিটা মুহূর্ত। ঠিকঠাক পরিশ্রম করলে ফল অবশ্যই মিলবে।’ ২০১১ ওডিআই বিশ্বকাপের ‘প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট’ আরও পরামর্শ দেন, ‘বিশ্বকাপে চাপ থাকবেই। চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে প্রতিকূল পরিস্থিতিতেও নিজের উপর আস্থা রেখে এগিয়ে যাওয়া দরকার। এজন্য অভিজ্ঞতার প্রয়োজন। দরকার আত্মবিশ্বাসও।’
মান্ধানা বলেন, ‘আমরা ক্রমশ লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে চলেছি। সেভাবেই খাটাখাটনি করছি।’ জেমিমার মতে, ‘প্রস্তুতি ও মানসিকতার দিক দিয়ে অনেক বদল এসেছে দলে। বেড়েছে আত্মবিশ্বাস। দলে এসেছে স্বচ্ছতা।’ ২০১৭ বিশ্বকাপে রানার্স হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মিতালি শোনান,‘ওই বিশ্বকাপ শুধু ভারতেই নয়, বিশ্বজুড়েই মহিলাদের ক্রিকেটে টার্নিং পয়েন্ট।’ সেবার অবশ্য ফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল মিতালিদের। এবার ঘরের মাঠে হরমনপ্রীতদের সামনে ইতিহাস গড়ার হাতছানি।