Bartaman Logo
৪ জুলাই, ২০২৬
বর্তমান / রাজ্য

রাজনৈতিক দলের সভায় এখন ডাক পড়ে না হরবোলা শিল্পীদের

একসময় ভোটের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভায় ডাক পড়ত হরবোলা শিল্পীদের। বিভিন্ন পশুপাখির ডাক, সিনেমার নায়কদের গলা নকল করে জনসভায় আসা মানুষের মনোরঞ্জন করতেন তাঁরা।

রাজনৈতিক দলের সভায় এখন ডাক পড়ে না হরবোলা শিল্পীদের
  • ১৮ মার্চ, ২০২৬ ১৪:০৩
Prefer us on Google

সংবাদদাতা, কাটোয়া: একসময় ভোটের আগে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সভায় ডাক পড়ত হরবোলা শিল্পীদের। বিভিন্ন পশুপাখির ডাক, সিনেমার নায়কদের গলা নকল করে জনসভায় আসা মানুষের মনোরঞ্জন করতেন তাঁরা। কিন্তু এখন আর তাঁদের কথা রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মনে নেই। সাউন্ড সিস্টেমে গান বাজিয়েই মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন তাঁরা। সেইসঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় অ্যানিমেশনের মাধ্যমে প্রতিপক্ষ দলের নেতাদের কটাক্ষ করা চলছে। এর ফলে ভোটের মরশুমেও দেখা মিলছে না হরবোলা শিল্পীদের।

Advertisement

আগে রাজনৈতিক দলের জনসভা শুরুর আগে এই শিল্পীরা নিজেদের প্রতিভা তুলে ধরতেন। স্টেজে উঠে বিভিন্ন পশুপাখির ডাক নকল করতেন তাঁরা। অনেকসময় বলিউড-টলিউডের নায়কদের গলা নকল করে বিভিন্ন বিখ্যাত ডায়ালগও শোনাতেন। তা দেখতে সভাস্থলে বহু মানুষ জড়ো হতেন। কখনো কখনো হাটেবাজারেও বিভিন্ন পাখির ডাক নকল করে শুনিয়ে তাঁরা প্রচার করতেন। বিনিময়ে ভালো পারিশ্রমিক মিলত। কিন্তু এখন সেসব অতীত। হরবোলা শিল্পীদের আর ডাক পড়ে না। জনসভা শুরুর আগে শোনা যায় রাজনৈতিক দলের থিম সং। আবার অনেক প্রার্থীও নিজের থিম সং বানিয়ে নিয়েছেন। তাই ভোট এলেও হরবোলা শিল্পীদের মুখে আর হাসি ফোটে না।
কাটোয়া-১ ব্লকের বাঁদরা গ্রামের বাসিন্দা বামাপদ গড়াই রোজ কাটোয়া শহরের স্টেশনবাজারে সবজি বিক্রি করেন। দু’বছর আগে স্ত্রী মারা গিয়েছেন। বাড়িতে দুই ছেলে ও বউমা রয়েছে। অভাব তাঁর নিত্যসঙ্গী। বামাপদবাবু একজন ভালো হরবোলা শিল্পী। আগে নানা রাজনৈতিক দলের মিটিংয়ে তাঁর ডাক পড়ত। মিটিং শুরুর আগে মঞ্চে নানারকম পশুপাখির ডাক নকল করে তিনি লোক জমাতেন। কিন্তু এখন আর তিনি ডাক পান না। বামাপদবাবু বলেন, ১০বছর আগেও বিভিন্ন নির্বাচনে আমি ডাক পেতাম। সভা শুরুর আগে লোক জড়ো করাই আমার কাজ ছিল। লোক এলেই রাজনৈতিক নেতারা বক্তৃতা শুরু করতেন। সমস্ত দল থেকেই ডাকা হত। সুড্ডা, গোয়াই অঞ্চলে দু’তিনটি করে রাজনৈতিক মিটিংয়ে ডাক পেতাম। এখন মাটি উৎসব ছাড়া তেমন ডাক আসে না। বিভিন্ন দলের সভা শুরুর আগে ডিজে বা গান বাজানো হয়। মঙ্গলকোট ও আউশগ্রামের হরবোলা শিল্পীরা জানান, কয়েকবছর আগেও তাঁরা এধরনের বেশ কিছু সভায় ডাক পেয়েছেন। তারপর থেকে এসব ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। আর এখন ভোট এলেও হরবোলা শিল্পীদের তেমন কেউ চেনেই না।

Advertisement
সম্পর্কিত সংবাদ