নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: অষ্টম শ্রেণির ছাত্রীর শ্লীলতাহানির ঘটনায় একই ক্লাসের অভিযুক্ত ছাত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করল পুলিস। রবিবার নাবালক ওই ছাত্রকে ‘আটক’ করে পুলিসের তরফে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের হাতে তুলে দেওয়া হয়। অতিরিক্ত পুলিস সুপার (হেড কোয়ার্টার) শৌভনিক মুখোপাধ্যায় এদিন বলেন, ওই ছাত্রীর বয়ান রেকর্ড করেছে পুলিস। যে ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাকে আইনি পদক্ষেপের আওতায় আনা হয়েছে।
জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের সরকারি আইনজীবী শান্তা চট্টোপাধ্যায় বলেন, পুলিস ছাত্রকে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ডের হাতে তুলে দিয়েছে। সোমবার দুপুরে বোর্ডে এবিষয়ে শুনানি হবে।
এদিকে, জলপাইগুড়ি শহরের যে নামী বেসরকারি স্কুলে ক্লাসের মধ্যেই ছাত্রীকে যৌন হেনস্তার ঘটনাটি ঘটেছে, সেই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ অনুযায়ী, সবটা জানার পরও স্কুল তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করে। শুধু তাই নয়, উল্টে ছাত্রীর পরিবারকে ধমক দেওয়া হয়। ছাত্রীকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়ার হুমকিও আসে। এমনকী যৌন হেনস্তার শিকার ওই ছাত্রীকে ঘটনার পরও ক্লাসে অভিযুক্ত ছাত্রের পাশে বসতে ‘বাধ্য’ করা হয়।
এ ব্যাপারে স্কুলের প্রিন্সিপাল কোনও প্রতিক্রিয়া না দিলেও এদিন ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এক মুখপাত্র বলেন, অভিযুক্ত ছাত্রের অভিভাবককে স্কুলে ডাকা হয়েছিল। অভিভাবককে জানানো হয়েছে, ছাত্রটির কাউন্সেলিং করিয়ে স্কুলে রিপোর্ট জমা দিতে হবে। সেইমতো পরিবার ছেলেটির কাউন্সেলিং রিপোর্ট স্কুলে জমা দেয়। ছাত্রটির কাছ থেকেও মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল।
২৩ জুন ঘটনা ঘটলেও স্কুলের তরফে কেন ৫ জুলাই পুলিসকে জানানো হল, তা নিয়ে ওই মুখপাত্র সদুত্তর দিতে পারেননি। তাঁর দাবি, শুক্রবার জেলা শিশু সুরক্ষা দপ্তরের আধিকারিকরা তদন্তে স্কুলে আসেন। এরপরই স্কুলের তরফে শনিবার পুলিসকে জানানো হয়।
ছাত্রীর মায়ের বক্তব্য, প্রথমেই থানা-পুলিস করতে চাইনি। ভেবেছিলাম স্কুল পদক্ষেপ করবে। পরে দেখলাম, স্কুল ছাত্রের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিচ্ছে না, উল্টে আমাদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। স্কুলে লিখিত অভিযোগ করলেও রিসিভ করে দেওয়া হচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বিষয়টি পুলিস-প্রশাসনকে জানাই। তাঁর দাবি, ঘটনার জেরে মেয়ে মানসিকভাবে এতটাই ভেঙে পড়ে যে, কয়েকদিন স্কুলে যেতে চায়নি। পরে ওকে বুঝিয়ে স্কুলে পাঠাই। কিন্তু শিক্ষকদের সামনেই পড়ুয়াদের একাংশ মেয়েকে উদ্দেশ্য করে অশালীন কথাবার্তা বলেছে। এমনকী ক্লাসে ওই ছাত্রের পাশে মেয়েকে বসতে বাধ্য করা হয়। এমন অবস্থা তৈরি করা হয়েছে যে, ওই স্কুলে মেয়ে যাতে আর পড়তে না পারে।
ঘটনার জেরে প্রশ্ন উঠেছে, ক্লাস চলাকালীন ওই ছাত্রী কীভাবে শ্লীলতাহানির শিকার হল? ক্লাসে কি সিসি ক্যামেরা ছিল না? যদি থাকে, সেক্ষেত্রে ফুটেজ দিয়ে ঘটনার পরই কেন জানানো হল না পুলিসকে? এতবড় ঘটনার পরও কেন স্কুল কর্তৃপক্ষ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করল? এসব নিয়ে প্রাক্তনীদের একাংশও স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে।